যুক্তরাষ্ট্র ইকুয়েডরে মাদকবিরোধী যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করেছে

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ওপর টানা হামলার পাশাপাশি মার্কিন প্রশাসন দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরেও মাদকবিরোধী যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ইকুয়েডরে ‘সন্ত্রাসীদের’ মোকাবিলায় দেশটির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা হচ্ছে। মার্কিন সামরিক ইউনিট ইউএস সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, ৩ মার্চ থেকে ইকুয়েডর ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইকুয়েডরের ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে।

এই অভিযান লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের মাদক-সন্ত্রাস মোকাবিলায় অংশীদার দেশগুলোর দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন। সামরিক হেলিকপ্টার উড্ডয়ন এবং নজরদারি চিত্র প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে মাটিতে থাকা কয়েকজনকে হেলিকপ্টারে উঠতে দেখা গেছে।

ইকুয়েডরের এই অভিযান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৃহত্তর মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ। এতে সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা, সাবমেরিনে হামলা এবং নৌযান ধ্বংসের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে কমপক্ষে ১৫০ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে অনেকেই সাধারণ শ্রমিক বা অনানুষ্ঠানিক কর্মী বলে অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলায়ও দুটি সামরিক অভিযান চালিয়েছে। প্রথম অভিযানে আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের জেটিকে লক্ষ্য করা হয় এবং দ্বিতীয় অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং সামরিক আগ্রাসনের উদাহরণ বলে সতর্ক করেছেন।

ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া বলেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়া হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতাকে স্বাগত জানান এবং নতুন ধাপের অভিযানের অঙ্গীকার করেন।

সমালোচকেরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কারণ বিদেশে মার্কিন সামরিক অভিযানের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ব্রায়ান ফিনুকেন বলেন, যৌথ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা এবং লক্ষ্যবস্তু এখনও স্পষ্ট নয়।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.