জাতীয় শহীদ সেনা দিবস আজ

আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি পালিত হচ্ছে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’। ১৭ বছর আগে, এই দিনে সাবেক সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি)-এর সদর দপ্তর ঢাকার পিলখানায় সংঘটিত বিদ্রোহের নামে হত্যাযজ্ঞে তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা বর্বর ও নির্মমভাবে নিহত হন।

এ ঘটনায় সাকিল আহমেদের স্ত্রীসহ আরও কয়েকজন বেসামরিক নাগরিকও প্রাণ হারান। পরদিনও এই হত্যাযজ্ঞ চলতে থাকে। এত বছর পরও এই ঘটনার পরিকল্পনাকারীরা বিচারের আওতায় আসেনি—এমন অভিযোগ শহীদ পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে আসে।

দিবসটি উপলক্ষে আজ সকালে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা জানাবেন। গত বছর থেকে এই দিনটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হচ্ছে। দিবসটি মূলত শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের স্মরণ, তাদের প্রতি দোয়া এবং রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা জানানোর দিন হিসেবে পালন করা হয়।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিশন পিলখানার হত্যাযজ্ঞ নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে। প্রতিবেদনে হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড এবং জড়িতদের বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করা হয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকার কমিশনের প্রতিবেদনে নাম থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা ও বিচার প্রক্রিয়া শুরু করলেও তা শেষ করতে পারেনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত সোমবার জানান, “আমাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার রয়েছে। আমরা বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পূর্ণাঙ্গভাবে পুনঃতদন্ত করব অথবা কমিশন গঠন করে তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেব। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

৫৭ শহীদ সেনা কর্মকর্তার একজন কর্নেল কুদরত-ই-এলাহীর ছেলে, ব্যারিস্টার সাকিব রহমান বলেন, শহীদ পরিবারের প্রায় সবাই জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, “আমাদের দাবি, বর্তমান সরকার যেন কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই বিচার কার্যক্রম শুরু করে।”

জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের কাছে পিলখানার হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ এখন বোধগম্য। ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় শহীদ সেনা দিবস। হত্যাযজ্ঞে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন শহীদ হয়েছেন। ২০০৯ সালের পর দিনটি যথাযথ গুরুত্বসহকারে পালন করা হয়নি। ২০২৪ সালে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পর থেকে দিনটি ‘শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। আজকের এই বিশেষ দিনে আমরা সেনা হত্যাযজ্ঞে শহীদদের মাগফিরাত কামনা করছি। তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রকাশ করছি।”

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “পিলখানায় সংঘটিত সেনা হত্যাকাণ্ডের বিচার চলমান। বিচারাধীন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলার সুযোগ নেই। তবে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী তৎপরতা বিদ্যমান ছিল—নাগরিক হিসেবে বিষয়টি আমাদের উপলব্ধিতে থাকা জরুরি। এই হত্যাকাণ্ডের পর নানা রকম মিথ্যা বা অপতথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছিল।”

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “সশস্ত্র বাহিনী একটি স্বাধীন দেশের সম্মান, বীরত্ব ও গৌরবের প্রতীক। ভবিষ্যতে যাতে কেউ সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে না পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে।”

আজ ১৭ বছর পরও পিলখানা হত্যাযজ্ঞের স্মৃতি দেশকে মনে করিয়ে দিচ্ছে সেই ভয়াবহ দিনটির কথা, যখন সশস্ত্র বাহিনীর সাহসী সদস্যরা বর্বরোচিতভাবে নিহত হন, এবং শহীদ পরিবারের কাছে বিচার এখনও অসম্পূর্ণ।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.