ভারতের আদানি পাওয়ার-এর বিদ্যুতের দাম বেশি হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে নতুন করে আলোচনা করতে চায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গ।
বিদ্যুৎ নিয়ে আলোচনার বিষয়টি বাংলাদেশের নতুন সরকারের অন্যতম নতুন উদ্যোগ বলে উল্লেখ করেছে গণমাধ্যমটি।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলেছেন, আদানি বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে কয়লা ব্যবহার করে সেটির দাম অনেক বেশি। ফলে বিদ্যুতের দামও বেশি হচ্ছে। যার ভার বহন করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র বলেছেন, নতুন সরকারের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হলো আদানির সঙ্গে দাম নিয়ে নতুন করে আলোচনা করা। তবে আদানির সঙ্গে বিষয়টি এখনো উত্থাপন করা হয়নি।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান রেজাউল করিমের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করেছিল গণমাধ্যম। তবে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
আদানি পাওয়ারের এক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের নতুন সরকার পুনঃআলোচনার ব্যাপারে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তিনি বলেছেন, এ মুহূর্তে চুক্তির সব ধারা তারা পূরণ করে যাচ্ছেন।
২০২৩ সাল থেকে ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছে আদানি। এটি কয়লাচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে আদানির সঙ্গে বাংলাদেশের ২৫ বছরের চুক্তি হয়। ঝাড়খণ্ডের এই কেন্দ্রে উৎপাদিত ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের প্রায় পুরোটাই বাংলাদেশে সরবরাহ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আদানির বিদ্যুতের দাম যত হওয়া উচিত ছিল বর্তমানে ‘এটির দাম অন্তত ৫০ শতাংশ বেশি’।
গণমাধ্যম বলেছে, বাংলাদেশ সরকার যদি আদানির বিদ্যুৎ নিয়ে পুনরায় আলোচনা করতে চায় তাহলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কঠিন হয়ে যেতে পারে। তারা বলেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে চান। সঙ্গে তিনি আরও ব্যালেন্স পররাষ্ট্রনীতির প্রতি আগ্রহী।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.