বৈশ্বিক শুল্ক বাড়িয়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায় অমান্য করে আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন। মূলত মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট তার পূর্বের শুল্কনীতি বাতিল করার ঠিক একদিন পরই ট্রাম্প এই পাল্টা ব্যবস্থা নিলেন।

এর আগে আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, বাতিল হওয়া শুল্কের বদলে সব ধরনের আমদানি পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা হবে। তবে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে শনিবার তিনি এই হার আরও ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দেন। আদালতের ঐতিহাসিক রায়কে একপ্রকার চ্যালেঞ্জ জানিয়েই তিনি তার কঠোর বাণিজ্য নীতিতে অটল থাকার বার্তা দিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বৈশ্বিক শুল্কনীতির মূল লক্ষ্য ছিল ২০২৬ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রায় ৩ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার রাজস্ব আদায় করা। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের তথ্য অনুযায়ী, আদালতের হস্তক্ষেপের ফলে কার্যকর শুল্কের হার ১২ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, যা মোকাবিলা করতেই ট্রাম্প এখন হার বাড়ানোর পথে হাঁটছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই জেদ মার্কিন অর্থনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করবে। সেন্টার ফর এ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটি-র সিনিয়র ফেলো র‍্যাচেল জিয়েম্বা মনে করেন, আদালতের রায়ের পর এখন চাইলেই দ্রুত এই শুল্ক কার্যকর করা প্রশাসনের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। এটি ট্রাম্পের অর্থনৈতিক এজেন্ডার পথে একটি বড় আইনি বাধা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

গত এক বছরে ট্রাম্প শুধু রাজস্ব বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নয়, বরং বিভিন্ন দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্রেও শুল্ককে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। উদাহরণ হিসেবে, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার অভিযোগে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, আইনি বাধা সত্ত্বেও শুল্ক বাড়ানোর এই নতুন ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.