ফেডের সুদহার নীতিতে মতভেদ, ডলার শক্তিশালী অবস্থানে

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ–এর কর্মকর্তারা নীতি সুদহার কমানোর বিষয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। ফেড আপাতত সুদহার কমানোর প্রক্রিয়ায় বিরতি দিতে চায়, এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

তবে মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশামতো কমতে শুরু করলে বছরের পরের দিকে আবার নীতি সুদহার কমতে পারে। বাজার আশা করছে, বর্তমান চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল–এর মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত সুদহার কমার সম্ভাবনা নেই।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সিএনবিসি ও রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এই পরিস্থিতিতে আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দাম আবার বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের উত্তেজনায় ডলারের পালে হাওয়া লেগেছে। মার্কিন বন্ডের সুদহার বাড়ায় ইউরো ও ইয়েনের বিপরীতে ডলারের অবস্থান মজবুত হয়েছে। ইউরোর মান ১ দশমিক ১৮ ডলারের নিচে ঘোরাফেরা করছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে সোনার দাম।

একই সঙ্গে মার্কিন অর্থনীতির সাম্প্রতিক তথ্যেও ডলারের পালে হাওয়া লেগেছে। জানুয়ারি মাসে শিল্প উৎপাদন ১১ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হারে বেড়েছে; বিনিয়োগ ও আবাসন খাতে উন্নতি দেখা গেছে।

মুদ্রাবাজারে ইউরো ও ইয়েনের তুলনায় ডলার শক্তিশালী অবস্থানে আছে। প্রতি ইউরোর বিপরীতে ১ দশমিক ১৭৯০ ডলার পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে প্রতি ডলারের বিপরীতে ১৫৫ দশমিক ২৫ ইয়েন পাওয়া যাচ্ছে।

গত ২৭-২৮ জানুয়ারির ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির বৈঠকের কার্যবিবরণীতে দেখা যায়, নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তে সামগ্রিক সমর্থন থাকলেও ভবিষ্যৎ পথরেখা নিয়ে মতভেদ আছে। এক পক্ষ মূল্যস্ফীতিকে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছে, অন্য পক্ষ শ্রমবাজারে প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টিতে গুরুত্ব দিচ্ছে।

কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি যদি প্রত্যাশামতো কমে, তাহলে ফেডারেল ফান্ডস রেটের লক্ষ্যমাত্রা আরও কমানো হতে পারে। কিন্তু কয়েকজন সদস্যের মতে, মূল্যস্ফীতি নিশ্চিতভাবে কমছে, এটি স্পষ্ট না হলে কিছু সময় নীতি সুদহার স্থির রাখাই সমীচীন। কেউ কেউ এমনও মত দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে সুদহার বাড়ানোর পথও খোলা রাখা উচিত, বিশেষ করে যদি মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যসীমার ওপরে থেকে যায়।

গত সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও ডিসেম্বরে নীতি সুদহার ধারাবাহিকভাবে তিন দফায় মোট শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ পয়েন্ট কমানো হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি সুদহার এখন ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের মধ্যে। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি কমেছে। এই বাস্তবতায় বিনিয়োগকারীরা আশা করছিলেন, নীতি সুদহার আরও কমবে।

কার্যবিবরণীতে ব্যক্তিগত নাম না উল্লেখ করে ‘কিছু’, ‘অনেকে’, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ’—এমন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। অধিকাংশ সদস্যের ধারণা, চলতি বছরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি কমবে, তবে এর গতি ও সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। শুল্কের কারণে দামের ওপর চাপ তৈরি হলেও সময়ের সঙ্গে তা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে, তবু সতর্কতা রয়েছে। সেটা হলো মূল্যস্ফীতিকে ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রায় নিয়ে আসার গতি ধীর ও অসম হতে পারে। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় লক্ষ্যসীমার ওপরে থাকবে, এমন ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.