ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির ফ্যাক্টশিটে একাধিক সংশোধনী

ভারত–যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে প্রকাশিত মার্কিন ফ্যাক্টশিটে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী এনেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফ্যাক্টশিটে বলা হয়েছিল, ভারত আমেরিকান ডালজাত পণ্যে শুল্ক কমাবে। কিন্তু হোয়াইট হাউসের সংশোধিত নথিতে এই দাবি পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে।

সেই সঙ্গে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী এনেছে ট্রাম্প প্রশাসন। সেটা হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারত ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কেনার বাধ্যতামূলক অঙ্গীকার করেছে—এই শব্দের বদলে বলা হয়েছে, ভারত এই পরিমাণ পণ্য কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) হিন্দুস্তান টাইমস ও ইকোনমিক টাইমস এর প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এই সংশোধনী তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কেননা এই চুক্তি এত দিন ঝুলে থাকার মূল কারণ ছিল ভারতের কৃষি খাতে মার্কিন পণ্যের প্রবেশাধিকার নিয়ে দর–কষাকষি। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় ভারত বরাবরই সংবেদনশীল। ভারত এই খাতে দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ শুল্ক আরোপ করে আসছে।

আগের ফ্যাক্টশিটে বলা হয়েছিল, ভারত সব মার্কিন শিল্পপণ্য এবং বিপুল পরিমাণ খাদ্য ও কৃষিপণ্য থেকে শুল্ক তুলে নেবে বা কমাবে। এর মধ্যে আছে ডিডিজি, লাল জোয়ার, বাদামজাত পণ্য, তাজা ও প্রক্রিয়াজাত ফল, নির্দিষ্ট কিছু ডাল, সয়াবিন তেল, ওয়াইন ও স্পিরিট।’

কিন্তু সংশোধিত সংস্করণে ‘নির্দিষ্ট কিছু ডাল’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে। নতুন নথিতে বলা হয়েছে, ভারত সব মার্কিন শিল্পপণ্য এবং বিপুল পরিমাণ খাদ্য ও কৃষিপণ্য থেকে শুল্ক তুলে নেবে বা কমাবে। এর মধ্যে আছে ডিডিজি, লাল জোয়ার, বাদামজাত পণ্য, তাজা ও প্রক্রিয়াজাত ফল, সয়াবিন তেল, ওয়াইন, স্পিরিটস ও অন্যান্য পণ্য।

ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডাল উৎপাদক ও ভোক্তা দেশ। মসুর ও ছোলার মতো পণ্য আমদানিতে উচ্চ শুল্ক আরোপ করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সে দেশের কৃষকদের সুরক্ষা দেয়। ফ্যাক্টশিটের এই পরিবর্তন থেকে বোঝা যাচ্ছে, দিল্লি এই বিষয়ে ওয়াশিংটনের চাপের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে।

শুধু ডাল নয়, সংশোধিত নথি থেকে ‘কৃষিপণ্য’ শব্দটিও সরানো হয়েছে। আগে লেখা ছিল, ভারত আরও বেশি পরিমাণে মার্কিন পণ্য কেনার অঙ্গীকার করেছে এবং জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, কৃষিপণ্য, কয়লা ও অন্যান্য খাতে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য কিনবে।

সংশোধিত সংস্করণে বলা হয়েছে, ভারত আরও বেশি মার্কিন পণ্য কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে এবং জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, কয়লা ও অন্যান্য খাতে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য কিনতে চায়।

ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্স নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। আগের নথিতে বলা হয়েছিল, ‘ভারত ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্স তুলে নেবে।’

কিন্তু সংশোধিত ফ্যাক্টশিটে সেই লাইন বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন লেখা হয়েছে, ভারত বৈষম্যমূলক বা অতিরিক্ত বোঝা সৃষ্টি করে এমন ডিজিটাল বাণিজ্য–সংক্রান্ত বাধা দূর করতে দ্বিপক্ষীয় নিয়ম প্রণয়নের বিষয়ে আলোচনা করতে রাজি হয়েছে। অর্থাৎ কর তুলে নেওয়ার কথা নয়, বরং ডিজিটাল বাণিজ্যের নিয়ম সহজ করার লক্ষ্যে আলোচনা করবে ভারত। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, ফ্যাক্টশিটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিছু শিথিলতা আনছে।

ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির রূপরেখা আগামী মার্চ মাসের মধ্যে স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে উভয়পক্ষের আলোচনা শুরু হয়েছে আরও প্রায় এক বছর আগে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করে। এরপর রাশিয়া থেকে তেল কেনার শাস্তি হিসেবে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে।

ফলে দুই দেশের সম্পর্কের চরম অবনতি হয়। কিন্তু সম্প্রতি সমঝোতার পর সেই শুল্কহার ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামানো হয়েছে। ফলে ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে। যদিও এ বিষয়ে ভারত স্পষ্ট কিছু জানায়নি।

এর আগে জানুয়ারি মাসে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করেছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ভারত যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সই করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর বাণিজ্য নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তার জেরে ভারত বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পৃথকভাবে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করছে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.