কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাড়া খেয়ে রাজ্জাক মিয়া (৫৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের আগানগর দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাজ্জাক আগানগর দক্ষিণপাড়ার আলাল উদ্দিন মিয়ার ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সকালে নাশতা খেয়ে ভোট দিতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান রাজ্জাক মিয়া। বেলা ১১টার দিকে ভোট দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে আসেন। পরে কেন্দ্র লাগোয়া আগানগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য খায়রুল ইসলামের বাড়িতে বসে ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি গাড়ি আসে। গাড়ি থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নেমেই কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান করা লোকজনকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কয়েকজনকে লাঠিপেটা করেন। এ সময় দৌড়ে কেন্দ্র এলাকা থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন রাজ্জাক মিয়া। হঠাৎ তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কিশোর কুমার ধর বলেন, রাজ্জাক মিয়াকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর শরীরে আঘাতের আলামত পাওয়া যায়নি। হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে।
সাবেক ইউপি সদস্য খায়রুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাজ্জাক মিয়া আমার বাড়িতে বসে ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আমার বাড়িতে এসে ধাওয়া দিলে রাজ্জাক বের হয়ে দৌড় দেন এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।’
বেলা দেড়টার দিকে রাজ্জাক মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর মরদেহ উঠানে রাখা। লোকজন জড়ো হয়ে দেখছিলেন। তাঁর বড় ছেলে মোরতুজ আলী বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি ছিলাম না। তবে জেনেছি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাড়া খেয়ে আমার আব্বা মাটিতে পড়ে যায় এবং মারা যায়।’
এ বিষয়ে কথা বলতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশীদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.