রমজানে প্রথমবারের মতো সড়কজুড়ে আলোকসজ্জা বেলজিয়ামে

পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সড়কজুড়ে রমজানের আলোকসজ্জা বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেলজিয়ামের ঘেন্ট শহর। শহরের দুটি ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় এই আলোকসজ্জা স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে দেশজুড়ে একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।

ঘেন্ট সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রমজান শুরুর কয়েক দিন আগে শহরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শপিং এলাকায় বিশেষ রমজান ডেকোরেশন স্থাপন করা হবে। উদ্যোগটির সমন্বয় করছে অ্যাসোসিয়েশন অব ঘেন্ট মস্কস বা ভিজিএম। আলোকসজ্জা বসবে ব্রুগসে পোর্ট এলাকার বেভ্রাইডিংসলান-ফিনিক্সস্ট্রাট এবং রাবোট জেলার ভন্ডেলগেমস্ট্রাটে।

এই দুটি এলাকা ঘেন্ট শহরের প্রাণবন্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি এখানকার দোকান মালিকদের বড় একটি অংশ মুসলিম। ফ্ল্যান্ডার্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় একশ স্থানীয় ব্যবসায়ী এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন।

আয়োজকদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে রমজানকে শুধু ধর্মীয় মাস হিসেবেই নয়, বরং শহরের অনেক বাসিন্দার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক সময় হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নগর অর্থনীতিতে এসব এলাকার ভূমিকার কথাও এতে প্রতিফলিত হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরেই এই উদ্যোগের জন্য আবেদন জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। অবশেষে তা বাস্তবায়ন হওয়ায় তারা উচ্ছ্বসিত বলে জানিয়েছেন ব্রুগসে পোর্ট এলাকার এক দোকান মালিক ফাতিহ সেনেল।

ভিজিএমের প্রতিনিধি মোহাম্মদ আবদেল মোটলেব ওমর জানান, এই আলোকসজ্জার ভাবনা অনেকটা বড়দিনের আলোয় সাজানো রাস্তার মতো হলেও নকশায় থাকবে প্রাচ্য ঘরানা। লন্ডনে গত চার বছর ধরে যে প্রতিষ্ঠান রমজানের আলোকসজ্জা সরবরাহ করছে, তারাই ঘেন্টের এই ডেকোরেশন তৈরি করছে। ফলে দৃশ্যমান সৌন্দর্য নিয়ে প্রত্যাশাও বেশ উচ্চমানের।

ইতোমধ্যে জার্মানির কোলোন এবং নেদারল্যান্ডসের কয়েকটি শহরে রমজান উপলক্ষে আলোকসজ্জা দেখা গেছে। ব্রাসেলসে এর আগে সীমিত পরিসরে এমন উদ্যোগ নেওয়া হলেও ঘেন্টের পরিকল্পনাকে তুলনামূলকভাবে বড় আকারের বলা হচ্ছে।

ভিজিএম আশা করছে, এই আয়োজন ভবিষ্যতে ঘেন্ট শহরের একটি স্থায়ী ঐতিহ্যে পরিণত হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, রমজান শুরুর আগের সপ্তাহে অর্থাৎ প্রায় ১৯ ফেব্রুয়ারির দিকে আলোকসজ্জা বসানো হবে। ঈদুল ফিতর পর্যন্ত পুরো রমজান মাসজুড়ে তা থাকবে। প্রতিদিন সূর্যাস্তের সময়, মুসলমানদের ইফতারের সঙ্গে মিল রেখে আলো জ্বালানো হবে।

আয়োজকদের ধারণা, বড়দিনের মতো রমজানেও সন্ধ্যার পর এসব এলাকায় মানুষের চলাচল বাড়বে। এতে পরিবারসহ কেনাকাটায় বের হবেন অনেকেই। এটি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ভিজিএম নিজ উদ্যোগে আলোকসজ্জা কিনেছে এবং পুরো প্রকল্পের ব্যয় বহন করছে। তবে মোট বাজেট প্রকাশ করা হয়নি। ঘেন্ট সিটি করপোরেশন ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় অনুমতি দিয়েছে, যা শহরের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য উদযাপনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সমর্থনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন আয়োজকরা।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.