পশ্চিম তীরে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর তৎপরতা ইসরায়েলের

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর তৎপরতা শুরু করেছে ইসরায়েল। এ লক্ষ্যে নতুন কিছু আইনের অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা–সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা। স্থানীয় গণমাধ্যমে এমন খবর আসার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ফিলিস্তিনের বিভিন্ন সংগঠন। এর বিরোধিতা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের গত রোববারের খবর অনুযায়ী, নতুন আইনে দখল করা পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের জন্য জমি কেনা আরও সহজ হবে। সেখানে ফিলিস্তিনিদের ওপর আইন প্রয়োগের জন্য আরও ক্ষমতা পাবেন ইসরায়েলিরা। পাশাপাশি ধর্মীয় কিছু স্থাপনা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিতে পারবে ইসরায়েল। ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের এলাকায় কার্যক্রম জোরদারও করতে পারবে তারা।

এরই মধ্যে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোৎরিচের দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণাকে কবর দেওয়া অব্যাহত রাখব।’ গাজা ও দখল করা পূর্ব জেরুজালেম ছাড়াও পশ্চিম তীর নিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করতে চান ফিলিস্তিনিরা। পশ্চিম তীরের বেশির ভাগ এলাকা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করছে। বাকি অল্প কিছু এলাকায় পশ্চিম–সমর্থিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের খুবই সীমিত স্বায়ত্তশাসন রয়েছে। পশ্চিম তীরে প্রায়ই ইসরায়েলি হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটে।

পশ্চিম তীরের বিরজেইত থেকে গণমাধ্যমের সংবাদদাতা নিদা ইব্রাহিম বলেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য এটি ইসরায়েলের সবচেয়ে ভয়ংকর পদক্ষেপ। ১৯৬৭ সালে পশ্চিম তীর দখলের পর থেকে এটি ইসরায়েলের নেওয়া সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনিদের যে জমি রয়েছে, তার মালিক হতে পারবেন ইসরায়েলিরা।

নিদা ইব্রাহিম বলেন, ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, বসতি স্থাপনকারীদের জমি মালিকানা পাওয়া বা বাড়ি নির্মাণ করা অবৈধ। কারণ, এসব আইনে দখলদার শক্তিকে দখল করা এলাকায় নিজ দেশের নাগরিকদের স্থানান্তর নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত পুরো পশ্চিম তীরকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।

ইসরায়েলের এমন পদক্ষেপের পর অবিলম্বে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ও যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কার্যালয়। এক বিবৃতিতে কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত খুবই বিপজ্জনক। ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারি বৃদ্ধির বৈধতা দিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ আট দেশ সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলের এমন পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে। দেশগুলো হলো মিসর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। তারা বলেছে, ইসরায়েলের পদক্ষেপের লক্ষ্য—অবৈধ বসতি স্থাপন আরও পাকাপোক্ত করা। পশ্চিম তীরে নতুন আইনি ও প্রশাসনিক বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়া।

ইসরায়েলি পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে অবৈধভাবে পশ্চিম তীর দখলের চেষ্টা আরও বেগবান করা এবং সেই সঙ্গে ফিলিস্তিনের জনগণকে তাদের ভূমি থেকে উৎখাতের পথ তৈরি করা হচ্ছে বলেও যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে আট দেশ।

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারি সম্প্রসারণের নতুন পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত সোমবার হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, পশ্চিম তীর স্থিতিশীল থাকলে ইসরায়েলও নিরাপদ থাকে। এটা ওই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি পদক্ষেপে সম্মত নন ট্রাম্প।

ইসরায়েলের এমন পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, ইসরায়েলের পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করছে এবং ‘দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক’ সমাধানের (ইসরায়েল–ফিলিস্তিন সংকট) সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে মনে করছেন মহাসচিব গুতেরেস।

এদিকে ইসরায়েলকে পশ্চিম তীরের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির সরকার বলেছে, ইসরায়েলের সিদ্ধান্তের প্রতি যুক্তরাজ্য দৃঢ়ভাবে নিন্দা জানায়। ফিলিস্তিনের ভৌগোলিক বা জনসংখ্যাগত গঠন একতরফাভাবে পরিবর্তনের যেকোনো চেষ্টা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.