বেসরকারি ঋণে রেকর্ড ধস, প্রবৃদ্ধি নেমেছে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে

শের বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে এই খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬ দশমিক ১০ শতাংশে। গত দুই দশকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, এর আগে কখনোই বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা এতটা নিচে নামেনি। এমনকি করোনা মহামারির চরম স্থবিরতার সময়েও এই প্রবৃদ্ধি ছিল সাড়ে ৭ শতাংশের উপরে।

গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, মূলত সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কারণে সুদের হার বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনীহা তৈরি করেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, তীব্র জ্বালানি সংকট এবং উচ্চ সুদের হারের কারণে নতুন বিনিয়োগের ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না তারা। এছাড়া সাবেক সরকারের প্রভাবশালী অনেক বড় ব্যবসায়ী বর্তমানে পলাতক বা কারারুদ্ধ থাকায় তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোতেও নতুন ঋণের চাহিদা তৈরি হচ্ছে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে মোট ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। অথচ সর্বশেষ মুদ্রানীতিতে এই প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭ দশমিক ২ শতাংশ। এদিকে বিনিয়োগ বাড়াতে নীতি সুদহার কমানোর দাবি উঠলেও গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে না নামা পর্যন্ত নীতি সুদহার ১০ শতাংশেই অপরিবর্তিত থাকবে।

নীতি সুদহার কমানো নিয়ে সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতানৈক্যের কারণে চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণাও বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হতে পারে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.