জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অতিরিক্ত কর কমিশনার সেহেলা সিদ্দিকার মূল বেতন দুই ধাপ অবনমিত করার মাধ্যমে দণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এনবিআর সংস্কার আন্দোলনে অংশ নিতে কর্মচারীদের দাপ্তরিক দায়িত্ব বাদ দিয়ে রাজস্ব ভবনে আসতে বাধ্য করার অভিযোগে গঠিত তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান স্বাক্ষরিত এক আদেশের সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, সেহেলা সিদ্দিকা আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটে কর্মরত থাকাকালে ২০২৫ সালের ২১ মে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থল ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছিলেন। কর্তৃপক্ষের মতে, তার এই সংগঠকের ভূমিকা দেশের রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম ব্যাহত করার শামিল ছিল, যা সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯ এবং শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিভাগীয় মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেহেলা সিদ্দিকার বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ তার বেতন গ্রেড দুই ধাপ অবনমিত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে তার বর্তমান মূল বেতন ৭১ হাজার ২০০ টাকা থেকে হ্রাস পেয়ে ৬৫ হাজার ৮২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।
দণ্ড প্রদানের পাশাপাশি তার বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার করা হলেও তার বেতন এই নিম্নতর ধাপে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থির থাকবে। উল্লেখ্য, এনবিআর সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজস্ব কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগে আরও কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানানো হয়।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.