বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) এবং গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশনের (জিসিএ) যৌথ উদ্যোগে ১৮–২২ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে ঢাকার বিআইবিএম ক্যাম্পাসে পাঁচ দিনব্যাপী “জেন্ডার-রেসপনসিভ মাস্টারক্লাস অন অ্যাডাপটেশন ফাইন্যান্স: জলবায়ু অর্থায়নে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির জন্য জাতীয় সক্ষমতা উন্নয়ন” শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) প্রতিষ্ঠানটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মাস্টারক্লাসে বিআইবিএম, বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) থেকে মোট ৩০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য ছিল আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জলবায়ু অভিযোজন বিষয়ক বিবেচনাগুলো সংযুক্ত করে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। প্রশিক্ষণ প্রদান করেন বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিআইবিএম-এর অভিজ্ঞ শিক্ষকবৃন্দ এবং ব্যাংকিং খাতের জ্যেষ্ঠ পেশাজীবীরা।
এই মাস্টারক্লাসের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স (ToT) উদ্যোগে জিসিএ-এর সহায়তায় জাতীয় প্রশিক্ষকরা অভিযোজন অর্থায়ন বিষয়ে দক্ষ হয়েছেন। সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে জিসিএ-এর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার এম. মোসলেহ উদ্দিন আর্থিক ব্যবস্থাপনায় জলবায়ু ঝুঁকি ও সহনশীলতা অন্তর্ভুক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথি, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার বলেন, টেকসই অভিযোজনের জন্য সুপরিকল্পিত ও পর্যাপ্ত অর্থায়নকৃত কৌশল অপরিহার্য, যা নীতিনির্ধারক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী এবং জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাস্তবায়ন সম্ভব। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ.কে.এম. সোহেল উল্লেখ করেন, জলবায়ু অভিযোজন এখন আর শুধু পরিবেশগত বিষয় নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকিং ইস্যু।
বাংলাদেশ ব্যাংকের টেকসই অর্থায়ন বিভাগের পরিচালক চৌধুরী লিয়াকত আলী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন আর্থিক খাতের জন্য বাস্তব ঝুঁকি, যা ঋণঝুঁকি বাড়ায় এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এমএসএমই) ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর প্রভাব ফেলে। জিসিএ-এর অ্যাডাপটেশন ফাইন্যান্স টিমের গ্লোবাল লিড অ্যাডেল ক্যাডারিও অভিযোজন অর্থায়নকে অর্থনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
বিআইবিএম-এর মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু অভিযোজন জরুরি এবং জলবায়ু ঝুঁকি মূল্যায়ন, বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত ও পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনায় আর্থিক খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
সফল পাইলট কার্যক্রমের পর বিআইবিএম বাংলাদেশের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য এই মাস্টারক্লাস নিয়মিত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়েছে। এটি বাংলাদেশের জাতীয় অভিযোজন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.