পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের বাণিজ্যিক প্লট নিলাম প্রক্রিয়া শেষ হলেও নতুন করে দেখা দিয়েছে ভ্যাট (মূসক) আদায়ের জটিলতা।
৪ শতাংশ ভ্যাট উল্লেখ করে নিলাম সম্পন্ন হওয়ার পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নতুন প্রজ্ঞাপনে সেই হার ১৫ শতাংশ করায় বিপাকে পড়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এই জটিলতা নিরসন এবং নিলামকারী সংস্থা ও ক্রেতার কাছ থেকে ভ্যাট আদায়ের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়ে এনবিআরকে চিঠি দিয়েছে রাজউক।
শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) রাজউকের অর্থ ও হিসাব শাখা থেকে পাঠানো ওই চিঠির বিষয়টি এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
চিঠির সূত্র অনুযায়ী, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে বাণিজ্যিক প্লট নিলামের জন্য ২০২৩ সালের ২২ আগস্ট দরপত্র আহ্বান করা হয়। ওই বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাজউকের ১৯তম সাধারণ সভায় নিলাম কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়। নিলামের শর্ত অনুযায়ী তখন ৪ শতাংশ হারে মূসক পরিশোধের বিষয়টি উল্লেখ ছিল। সেই অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নিলামগ্রহীতাদের অর্থ পরিশোধের নির্দেশনা দিলে তারা নির্ধারিত সময়েই টাকা জমা দেন।
ভ্যাটের হারের অসংগতি জটিলতা শুরু হয় এনবিআরের প্রজ্ঞাপন পরিবর্তনের কারণে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নিলামকারী সংস্থা হিসেবে রাজউকের জন্য ভ্যাট ছিল ১০ শতাংশ এবং ক্রেতার জন্য ৭.৫ শতাংশ। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের নতুন প্রজ্ঞাপনে (যা ৬ জুন থেকে কার্যকর হয়) নিলামকারী সংস্থা ও ক্রেতা– উভয় পক্ষের জন্যই ১৫ শতাংশ হারে মূসক প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
রাজউক বলছে, সাধারণত ভ্যাট সেবাগ্রহীতা পরিশোধ করেন এবং আয়কর দেন সেবাপ্রদানকারী। কিন্তু নতুন প্রজ্ঞাপনে উভয় পক্ষের কাছ থেকেই ১৫ শতাংশ ভ্যাট আদায়ের কথা বলায় তা বাস্তবায়ন করা জটিল হয়ে পড়েছে।
পুরো নিলাম কার্যক্রম চলেছে ২০২৩ সালের ২২ আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। অর্থাৎ নতুন ১৫ শতাংশ ভ্যাট কার্যকর হওয়ার আগেই নিলামের মূল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আগে সম্পাদিত নিলামের ওপর নতুন হারে ভ্যাট আরোপ করা আইনসম্মত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
চিঠিতে রাজউক জানতে চেয়েছে– নিলামকারী সংস্থা ও ক্রেতা উভয়ের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় হবে কি না, পূর্বে সম্পাদিত নিলামের ক্ষেত্রে ক্রেতার কাছ থেকে অতিরিক্ত ভ্যাট নেওয়া যাবে কি না এবং রাজউককে আয়কর বা অন্যান্য কর পরিশোধ করতে হবে কি না।
এর আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে লিখিতভাবে মতামত চাওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি। এর ফলে নিলামগ্রহীতা ও রাজউকের মধ্যে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য পুনরায় বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে রাজউক।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.