জনস্বাস্থ্য ও মানুষের মৌলিক অধিকারের জন্য হুমকি তৈরি করছে-এমন অভিযোগে সারা দেশে সিসা ও হুক্কা লাউঞ্জের সব অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস এম জুলফিক্বার আলী জুনু জনস্বার্থে মামলার (পিআইএল) রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদন দাখিল করেন।
আবেদনে বলা হয়, ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ক্যাফে, রেস্তোরাঁ ও ক্লাবের আড়ালে আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়াই অসংখ্য সিসা ও হুক্কা লাউঞ্জ পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সিসায় তামাক, নিকোটিন, কার্বন মনোক্সাইড ও অন্যান্য আসক্তিকর রাসায়নিক উপাদান থাকে- যা ফুসফুসের ক্যানসার, হৃদ্রোগ, শ্বাসযন্ত্রের বিভিন্ন রোগ ও আসক্তির কারণ হতে পারে। চিকিৎসা গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, একবার সিসা সেবন করা ১০০ থেকে ২০০টি সিগারেট ধূমপানের সমান, যা ব্যবহারকারী ও পরোক্ষ ধূমপায়ীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।
রিটে আরও বলা হয়, জনসমাগমস্থলে সিসা ধূমপানের অনুমতি দেওয়া ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫-এর (২০১৩ সালে সংশোধিত) ৪ নম্বর ধারার সরাসরি লঙ্ঘন। ওই ধারায় সব ধরনের জনসমাগমস্থলে ধূমপান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সিসা ও হুক্কায় আসক্তিকর উপাদান রয়েছে। এর অননুমোদিত ব্যবহার, সরবরাহ ও প্রচার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।
এ ছাড়া সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের বরাতে আবেদনে বলা হয়, অপ্রাপ্তবয়স্করাও এসব লাউঞ্জে প্রবেশ করে সিসা সেবন করছে। এতে তারা আসক্তি, অপরাধপ্রবণতা ও সামাজিক অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা শিশু সুরক্ষা নীতির পরিপন্থী।
রিট আবেদনে স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের মহাপরিচালক, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের বিবাদী করা হয়েছে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.