সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সাহায্য চাইলেন ইরানের দুই চলচ্চিত্র নির্মাতা

ইরানে চলমান সরকার বিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছেন। জনরোষ ঠেকাতে ইন্টারনেট বন্ধ করেছেন খামেনি সরকার।

ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ায় বিক্ষোভকারী ও অন্যান্য নাগরিকরা বিশ্বব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। চলমান সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রখ্যাত ইরানী নির্মাতা জাফর পানাহি ও মোহাম্মদ রাসুলফ।

গত ১০ জানুয়ারি বিনোদনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেডলাইনকে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, ‘সম্প্রতি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে লাখ লাখ ইরানি রাস্তায় নেমে আসার পর, সরকার আবারও দমনপীড়নকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে।’

গত ৮ জানুয়ারি থেকে ইরানে ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন ও ল্যান্ডলাইন বন্ধ রয়েছে। তার প্রতিক্রিয়ায় বিবৃতির এক অংশে নির্মাতারা উল্লেখ করেন, ‘অভিজ্ঞতা বলে যে এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্দেশ্য হলো আন্দোলন দমনের সময় সংঘটিত সহিংসতা লুকানো।’

নিজ দেশের নাগরিকদের জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা আমাদের সহ-নাগরিক, পরিবার, সহকর্মী ও বন্ধুদের জীবন নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, যাঁরা এই পরিস্থিতিতে খুব অসহায় হয়ে পড়েছেন।’

সবশেষে বলা হয়, ‘ইতিহাস সাক্ষী দেয় যে আজকের নীরবতা ভবিষ্যতে দুঃখজনক পরিণতি বয়ে আনবে।’

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে বিক্ষোভের ডাক দেয় ইরানের ব্যবসায়ীরা। এতে লাখ লাখ মানুষ অংশ নেন। এরপর সরকার সেখানে দমনপীড়ন শুরু করলে, দ্রুতই তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সির (এইচআরএএনএ) মতে, ইরানে চলমান অস্থিরতায় এখন পর্যন্ত ৪৯০ জন বিক্ষোভকারী ও ৪৮ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ১০ হাজারের বেশি।

সম্প্রতি এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ইরানী অভিনেত্রী গোলশিফতেহ ফারাহানি লিখেছেন, ‘ইরান আবারও জ্বলছে! ইরানের জনগণের জন্য আমার হৃদয় কাঁপছে।’

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.