সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি) আগামী রোববার শুরু হবে অ্যাশেজের পঞ্চম ও শেষ টেস্ট। এই ম্যাচ দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলবেন অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার উসমান খাওয়াজা। সিরিজের শেষ টেস্টের আগে সংবাদ সম্মেলনে সেই ঘোষণাই দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার।
এই সিডনিতেই ২০১১ সালে টেস্ট অভিষেক হয় খাওয়াজার। এরপর অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে অনেক বার বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়েছেন তিনি। বিদায় বেলাতেও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন এই অজি ক্রিকেটার।
বিদায়ের ঘোষণা দিয়ে খাওয়াজা বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরেই এটা নিয়ে ভাবছিলাম। এই সিরিজের দিকে এগোতে এগোতে আমার মনে একটা ধারণা কাজ করছিল, এটাই হয়তো আমার শেষ সিরিজ। এ বিষয়ে আমি র্যাচেলের (খাজার স্ত্রী) সঙ্গে কথা বলেছি। জানতাম এটা বড় একটা সুযোগ। তবে একদমই সরে আসিনি; কারণ, জানতাম খেলা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড শেষ পর্যন্ত সঠিক-কিছুদিন আগে যখন তাঁকে জানালাম, তিনি তখনো ভাবছিলেন ভারতের (২০২৭) বিপক্ষে খেলতে পারি।’
সিডনিতেই নিজের প্রথম শ্রেণি ও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয়েছে। এবার সেই মাঠেই ক্যারিয়ারের ইতি টানতে পেরে আবেগতারিত হয়েছেন খাওয়াজা। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৮৭ টেস্টে ৪৩.৩৯ গড়ে ১৬ সেঞ্চুরিসহ ৬ হাজার ২০৬ রান করেছেন তিনি। ক্যারিয়ার নিয়ে অনেক আলোচনা সমালোচনা চলছিল চারিদিকে। অজি অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক তাকে সিডনিতেই ইতি টানার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
বিশেষ করে চোট ও ফর্মের ধারাবাহিকতার কারণে স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারছিলেন না খাওয়াজা। চলতি অ্যাশেজেও ব্যাট তার হয়ে কথা বলেনি। ৩ ম্যাচে ৫ ইনিংসে মাত্র ১৫৩ রান করেছেন তিনি। এমসিজি থেকে মর্যাদার সঙ্গে বিদায় নিতে পেরে আনন্দিত খাওয়াজা।
তিনি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেছেন, ‘এসসিজি-যে মাঠটিকে আমি ভালোবাসি, সেখানে একটু মর্যাদার সঙ্গে নিজের ইচ্ছায় বিদায় নিতে পারছি, সে জন্য আমি খুশি। তবে সিরিজের শুরুটা আমার জন্য বেশ কঠিন ছিল। এরপর (শুরুতে) অ্যাডিলেডে দলে জায়গা না পাওয়াটা সম্ভবত আমার জন্য একটা ইঙ্গিত ছিল যে ঠিক আছে, এখন সরে দাঁড়ানোর সময়।’
অজি কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডের সঙ্গেও অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা বলেছেন খাওয়াজা। তিনিও এই ব্যাটসম্যানকে অবসর নেয়ার সবুজ সঙ্কেত দেন। এই প্রসঙ্গে খাওয়াজা বলেন, ‘তাকে বলেছিলাম, এই মুহূর্তে যেকোনো পর্যায়ে যদি মনে হয় আমার অবসর নেওয়া উচিত, তাহলে সেটাই করব। আমি কোনো কিছু আঁকড়ে ধরে থাকতে চাই না। এটা সবচেয়ে বিরক্তিকর। কারণ, আমার মনে হয়েছে, লোকে আমাকে আক্রমণ করছে। খেলে যাওয়ার জন্য তারা আমাকে স্বার্থপর বলছে বলে মনে হয়েছে। কিন্তু আমি নিজের জন্য খেলিনি। কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড সরাসরি “না” বলে দেন। বলেছিলেন, আমি চাই তুমি থাকো। শ্রীলঙ্কা ও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে তোমাকে আমাদের প্রয়োজন। তাই থেকেছি।’
মিডিয়ার বর্ণবাদি আচরণ নিয়ে খাওয়াজা আরও বলেন, ‘মিডিয়া এবং সাবেকরা আমাকে যেভাবে আক্রমণ করেছে, সেটা কয়েক দিন সহ্য করতে পারতাম। কিন্তু পাঁচ দিন ধরে চলল। আমার প্রস্তুতি নিয়ে সবাই যেভাবে আক্রমণ করেছে-দলের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়, শুধু নিজের কথাই ভাবে। গলফ খেলে। স্বার্থপর। কঠোর অনুশীলন করে না। আলসে। এগুলো সেই একই রকম বর্ণবাদী স্টেরিওটাইপ (ভেবেছিলাম আমরা এগুলো পেছনে ফেলে এসেছি)।’



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.