জমি বিক্রি করে জনতার ঋণ শোধে আরও সময় পেল এননটেক্স

জনতা ব্যাংকের আলোচিত গ্রাহক অ্যাননটেক্স গ্রুপকে জমি বিক্রি করে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে জমি বিক্রি করে ব্যাংকের ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করতে হবে প্রতিষ্ঠানটির।

সম্প্রতি জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত এ ব্যাংকটির সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ব্যাংকটির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এননটেক্স গ্রুপসহ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ নিয়ে চাপে রয়েছে জনতা ব্যাংক। ঋণ আদায়ের জন্য এননটেক্স গ্রুপকে বড় অঙ্কের সুদ মওকুফ সুবিধা দিয়েছিল ব্যাংক।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এননটেক্স গ্রুপের কাছে আরোপিত, অনারোপিত সুদসহ ব্যাংকের পাওনা ছিল ৮ হাজার ১৭৮ কোটি টাকা। এককালীন ঋণ পরিশোধ সুবিধার (ওয়ান টাইম এক্সিট) আওতায় ৩ হাজার ৩৫৯ কোটি টাকা সুদ মওকুফ করে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। সুদ মওকুফ-পরবর্তী ৪ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করার শর্ত দেওয়া হয়। তাতে ব্যর্থ হয় এননটেক্স গ্রুপ।

এর ফলে নতুন করে সুদ যোগ হয়ে এখন এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাংকের পাওনা দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৯৬০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। গ্রাহকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময় দিল ব্যাংক।

এবিষয়ে জানতে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল জব্বারকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হয়। তবে তিনি এ প্রতিবেদকের কল রিসিভ করেন নি।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এননটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের বিপরীতে আশুলিয়া ও টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন প্রায় ১২৮ একর জমি ব্যাংকের কাছে বন্ধক রয়েছে। এখন এই জমি বিক্রি করে আগামী দুই বছরের মধ্যে পুরো ঋণ পরিশোধ করতে হবে। ভেঙে ভেঙে কিংবা একবারে সব জমি বিক্রি করা যাবে। যখন যে অংশ বিক্রি হবে ওই পরিমাণ জমির কাগজ ছাড় করা হবে। পুরো ঋণ পরিশোধের পর যদি জমি থাকে তখন তার মালিকানা পাবে এননটেক্স।

এদিকে আইএমএফের শর্ত মেনে ২০২৬ সালের মধ্যে সরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের নিচে নামানোর অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত যেখানে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ রয়েছে ১৭ হাজার ৫০১ কোটি টাকা, যা ১৯ দশমিক ২ শতাংশ। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ রয়েছে ৩ হাজার ৩০ কোটি টাকা। এননটেক্স, ক্রিসেন্ট লেদার, বিসমিল্লাহ গ্রুপসহ কয়েকটি আলোচিত গ্রুপ এই ব্যাংকের খেলাপি।

অর্থসূচক/মো. সুলাইমান

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.