যৌতুকের জন্য ঠিকানা বাথরুম!

0
96
women-captive-crime
পণ দিতে না পারায় বধূর ঠিকানা শৌচালয়ে- ফাইল ছবি
women-captive-crime
পণ দিতে না পারায় বধূর ঠিকানা শৌচালয়ে- ফাইল ছবি

আরও একবার সামনে আসলো পণপ্রথার নির্মম কাহিনী। দাবি মতো যৌতুক দিতে না পারায় ঠিকানা হলো বাড়ির বাথরুমে। দীর্ঘ ৩ বছর বধূকে বাথরুমে বন্দী করে রাখল স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির সদস্যরা।

পরে বিহারের দারভাঙা শহরের রামবাগ এলাকা থেকে ওই বধূকে উদ্ধার করে পুলিশ।

মঙ্গলবার ভারতের এক বার্তা সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাবা শ্যামসুন্দর সিংহের চেষ্টায় ওই মহিলাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। উদ্ধারের সময় মহিলাটির পরণে ছিল মলিন-ছিন্ন কাপড়, তার চুলে জট পড়েছে, হাত ও পায়ের নখও অনেক বড় ছিল। দীর্ঘ ৩ বছর অন্ধকার ঘরে আবদ্ধ থাকতে থাকতে এখন সূর্যের আলোয় তার তাকাতে কষ্ট হয়।

মহিলা থানার অফিসার সীমা কুমারী জানান, এক চিলতে ঘরে এতদিন কাটিয়ে প্রায় নিজের অস্তিস্তই ভুলতে বলেছিলেন ওই মহিলা। বিবাহিত হলেও তার সিঁথিতে সিঁদুর বা কপালে বিন্দিও ছিল না।

ওই মহিলা পুলিশকে জানান, তাকে বাথরুমে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে তালাবন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। নিজের সন্তানকেও দেখতে দেওয়া হতো না। কখনও কখনও তাকে উচ্ছিষ্ট-অবশিষ্ট খাবার দেওয়া হতো।

তিনি জানান, বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়ির চাহিদা মতো পণ দিতে না পারায় এবং কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ায় কারণেই তাকে এই ‘শাস্তি’ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, জেলার অন্দ্রথাডি থানা এলাকার পাটসান গ্রামে ওই মহিলার বাবার বাড়ি। ২০১০-এ প্রভাত কুমার সিংহের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পরই আরও বেশি পণের দাবিতে তার ওপর অত্যাচার শুরু করে স্বামী সহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন।

বাবা-মা-র সঙ্গেও তাকে দেখা করতে দেওয়া হত না। আত্মীয়রা তার সঙ্গে দেখা করতে এলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন এ ব্যাপারে আপত্তি করত। এমনকি ঝগড়া করে তাদের তাড়িয়েও দিত বলে জানান অফিসার সীমা।

দারভাঙার এসএসপি-র কাছে এ ব্যাপারে অভিযোগ দায়ের করেন বাবা শ্যামসুন্দর সিংহ। এরপরই মহিলা ইন্সপেক্টরকে ঘটনাটি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন এসএসপি।

মহিলার স্বামী, শ্বশুর ধীরেন্দ্র সিংহ এবং শাশুড়ি ইন্দ্র দেবীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারও করা হয়েছে বলে জানান অফিসার সীমা।

এএসএ/