তোবা শ্রমিকদের কোথাও চাকরি মিলছে না

0
83
toba-salary
বিজিএমইএ ভবনে জুলাইয়ের বেতন নিচ্ছেন তোবার কর্মীরা। এর পর থেকে তারা কোনো বেতন পাননি, কোথাও চাকরিও পাচ্ছেন না- ছবি খালেদুল কবির নয়ন
toba-salary
বিজিএমইএ ভবনে জুলাইয়ের বেতন নিচ্ছেন তোবার কর্মীরা। এর পর থেকে তারা কোনো বেতন পাননি, কোথাও চাকরিও পাচ্ছেন না- ছবি খালেদুল কবির নয়ন

‘তোবা গ্রুপের শ্রমিকদের চাকরি দেওয়া নিষেধ। এরা কারখানার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে। কারখানার সম্পত্তি নষ্ট করে। এদের কোনো চাকরি হবে না।’

কথাগুলো বলেই কেঁদে ফেলেন জামালপুরের জুলেখা বেগম।তিনি কাজ করতেন তোবা গ্রুপের তাইফ ফ্যাশনে। অনেক দিন ধরে কারখানা বন্ধ। অন্য জায়গায় চাকরি খুঁজছেন। কিন্তু পাচ্ছেন না। সবাই দূর দূর করে তাড়িয়ে দিচ্ছে।

জুলেখা বেগমের মতো একাধিক শ্রমিক জানালেন একই কথা। শ্রমিকদের অভিযোগ, কোনো কারখানায় তাদের চাকরি হচ্ছে না। বহু কারখানার ফটকে লেখা রয়েছে ‘কর্মখালি নেই’, ‘এখানে চাকরি দেওয়া হয় না’ আবার কোথাও কিছু লেখা না থাকলেও তোবা গ্রুপের নাম শোনার পর ‘চাকরি নেই’ বলা হচ্ছে।

বুকশান গার্মেন্টসে ২ বছর ধরে কাজ করেন বগুড়ার অর্চনা রানী বিশ্বাস। তিনি অর্থসূচককে বলেন, ‘বুকশান বন্ধ হওয়ার পর আমি প্রায় ১২টি কারখানা ঘুরেছি চাকরির জন্য তবে কোনো কারখানায় চাকরি পাচ্ছি না। কোথাও শ্রমিক নিতে চাইলেও তোবা গ্রুপের নাম শোনার পর বের করে দিচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, কারখানাগুলোর কর্মকর্তারা এসময় বলছেন, কারখানায় কাজ করা অবস্থায় যারা আন্দোলন করে তা খারাপ; তাদের চাকরি দিতে চাই না। অনেক কারখানায় শ্রমিকের প্রয়োজন থাকলেও তারা নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পঞ্চগড়ের জবেদা খাতুন এখন ঝিয়ের কাজ নিয়েছেন। সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কাজ করে পান মাত্র ২২০০ টাকা। পরিবারের চারজন সদস্যের মুখে খাবার তুলে দিতে বড় অসহায় হয়ে পড়েছেন তিনি। ঝিয়ের কাজের ফাঁকে ফাঁকে রামপুরা, বাড্ডা, মালিবাগ, কুড়িল ও গুলশান এলাকার কারখানাগুলো ঘুরে কোনো চাকরি যোগাড় করতে পারেননি।

আর বরিশালের পলি আক্তার ভাবছেন গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ার কথা। যদি কারখানা নতুন করে চালু হয় কিংবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি হয় তবে আবার ঢাকায় আসবেন।

কারখানাগুলোতে তোবার শ্রমিক নেওয়া নিষেধ রয়েছে কি না জানতে চাইলে বিজিএমইএ সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজীম অর্থসূচককে বলেন, শ্রমিকদেরএ অভিযোগ সত্য নয়। এমনিতেই সাব কন্ট্রাক্টধারী কিংবা শেয়ার্ডবিল্ডিংয়ের কারখানায় কাজ নেই। কারখানাগুলো তাদের নিজস্ব শ্রমিকদের কাজ দিতে পারছেন না। তার ওপর নতুন করে চাকরি দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, কোন কারখানা কাকে চাকরি দেবে কিংবা কাকে চাকরি দেবে না এটা একান্তই তাদের বিষয়। এখানে অন্য কারোর হাত নেই। আর বিজিএমইএ পক্ষ থেকে কোনো কিছু বলা হয়নি বলে জানান তিনি।

তোবা গ্রুপ সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক মোশরেফা মিশু অর্থসুচককে এই বিষয়ে বলেন, কারখানা খুলে দিয়ে শ্রমিকদের হাতে কাজ দেওয়াই বড় সমাধান। আর আইন অনুযায়ী যেহেতু কারখানা চলছে। তাই কারখানা খুলে দেওয়ার পর শ্রমিকদের দুই ঈদের বোনাস, দুই মাসের বেতন পরিশোধ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, তোবার সমস্যা নিয়ে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। ঈদের আর এক মাস বাকি রয়েছে। আবার কোনো অনশন যাতে না হয় তা নিয়ে সতর্ক থাকার জন্য বলেন তিনি।

উল্লেখ্য, রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় তোবা গ্রুপের ৫টি কারখানায় প্রায় দেড় হাজার পোশাক শ্রমিক কাজ করতেন। বকেয়া বেতন, ওভার টাইম ও ঈদ বোনাসের দাবিতে গত ঈদের আগের দিন থেকে শ্রমিকরা টানা ১১দিন অনশন করেছেন। তাতে মালিক পক্ষ তাদের তিন মাসের বেতন প্রদান করে। এমডি দেলোয়ার জেল থেকে মুক্তি পেয়ে সংবাদ সম্মেলন করে। তাতে অর্থের অভাবে কারখানা চালু করতে পারছেন না বলে উল্লেখ করেন।