ভারতে ৩০ কোটি মানুষ এখনও নিরক্ষর

0
48
illiteracy
নিরক্ষরতার জন্যে মূলত লিঙ্গ বৈষম্য ও ত্রুটিপূর্ণ নীতিমালাকে দায়ী করা হচ্ছে।
illiteracy
নিরক্ষরতার জন্য মূলত লিঙ্গ বৈষম্য ও ত্রুটিপূর্ণ নীতিমালাকে দায়ী করা হচ্ছে।

বহু দশক ধরে সাক্ষরতা অভিযান চালানোর পরও ভারতে আজও ২৮ কোটি ৬০ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ নিরক্ষর – যা ফ্রান্সের মোট জনসংখ্যারও চারগুণ।

জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন ইউনেস্কোর এক প্রতিবেদনে সোমবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এই নিরক্ষরদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী এবং এই পরিস্থিতির জন্য ভারতীয় সমাজের লিঙ্গ বৈষম্য এবং নীতি নির্ধারণের ত্রুটিকেই বিশেষজ্ঞরা দায়ী করছেন।

পড়াশুনো শুরু করার কোনও বয়স নেই, সমাজে শুধু কদর শিক্ষিত লোকেদেরই – এই ধরনের নানা বিজ্ঞাপনী বার্তা আর অজস্র প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতে সাক্ষরতা অভিযান চলছে বিগত অর্ধ-শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে।

কিন্তু তার পরেও বিশ্বের যে দেশগুলোতে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে নিরক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি, ভারত তার মধ্যেই পড়ে।

বিবিসি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস আজ পালিত হয়েছে ভারতেও – যেখানে বিশ্বের প্রাপ্তবয়স্ক নিরক্ষরদের একটা বড় অংশ বসবাস করেন।

সরকারি সংস্থা ন্যাশনাল বুক ট্রাস্টের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা অরুণ চক্রবর্তী দেশের সাক্ষরতা অভিযানের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন।

তিনি বলছেন, উত্তর-পূর্ব ভারতে সাত-আটটি ভাষায় সদ্য-সাক্ষরদের জন্য বই তৈরি করতে গিয়ে তিনি দেখেছেন।

সাক্ষরতা অভিযানের জন্য কর্মীদের রাজধানীতে যেভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় তার সঙ্গে বাস্তব অবস্থার কোনও মিলই নেই।

তার প্রশ্ন, অরুণাচল প্রদেশে কেন স্থানীয় ভাষার পরিবর্তে সদ্য-সাক্ষরদের জন্য ইংরেজিতে বই লেখা হবে?

বহু-ভাষাভাষী, বহু-সংস্কৃতির দেশ ভারতে সাক্ষরতা অভিযানের নীতিতে সেই বহুতার প্রতিফলন হয়নি বলেই উল্লেখ করেন তিনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিল্লির নীতিনির্ধারকরা এই ধরনের সমস্যা নিয়ে অবহিত নন বলেই আজও সাক্ষরতার হার ৭৩ শতাংশের নিচে।