‘২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার শূন্যে নিয়ে আসা হবেই’

0
63
ছবি সংগৃহীত
Lotus_Kamal_planning_comission
রোববার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পরিকল্পনা কমিশনের সম্মেলন কক্ষে ‘মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল: বাংলাদেশের অগ্রগতি রিপোর্ট ২০১৩’ প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আফম মুস্তফা কামাল

পরিকল্পনা মন্ত্রী আফম মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার অবশ্যই শূন্যে নিয়ে আসা হবে ।

রোববার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পরিকল্পনা কমিশনের সম্মেলন কক্ষে ‘মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল: বাংলাদেশের অগ্রগতি রিপোর্ট ২০১৩’ প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দারিদ্র্য দূরীকরণ, শিশুদের অপর্যাপ্ত ওজনের প্রকোপ, শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তি হার, মাতৃমৃত্যু হার, শিশুদের টিকা দেওয়ার আওতা বৃদ্ধি এবং সংক্রামক রোগের বিস্তার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ ঘোষিত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় ২০১৫ সালের মধ্যে দারিদ্রের হার ২৯ শতাংশ নিয়ে আসার কথা ছিলো। টেকসই উন্নয়ন, সুষম ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির কারণে ১৯৯১-৯২ সালের ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ২০১০ সালে দারিদ্র্যের হার ৩১ দশমিক ৫ ভাগে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বিগত দশক অপেক্ষা বর্তমান দশকে দারিদ্র্য হার অধিক পরিমাণে কমেছে। সর্বশেষ খানা আয় ব্যয় জরিপে ২০১০ অনুযায়ী বাংলাদেশে ২০০০-২০১০ মেয়াদে গড়ে প্রতিবছর দারিদ্যের হার কমেছে ১ দশমিক ৭৪। বর্তমানে দেশে দারিদ্যের হার ২৬ দশমিক ২ শতাংশ।

এ সময় পরিকল্পনা মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, আমি হয়তো বাচবো না। তবে যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি তাতে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার অবশ্যই শূন্যে নিয়ে আসা হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বিনামূল্যে বই বিতরণ ও উপ-বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের লক্ষ্যমাত্রা সময় শেষ হওয়ার আগেই বাংলাদেশ তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। মেয়েদের জন্য আলাদা বৃত্তির ব্যবস্থা করায় সার্বজনীন শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ ছেলেদের চেয়ে বেড়েছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে উচ্চ শিক্ষায়ও মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়বে।

তিনি বলেন, কমিনিউটি ক্লিনিক স্থাপন, জাতীয় স্বাস্থ্য নীতি প্রণয়ন ও স্বাস্থসেবায় তথ্য-যোগাযোগ ব্যবস্থা বাড়ানোর ফলে মাতৃমৃত্যু হার অনেক কমেছে। ২০০১ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ৯ বছরে মাতৃমৃত্যহার কমেছে ৪০ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ২০১৫ সালের মধ্যে প্রতিবছর ৩ শতাংশ হারে কমাতে হবে। তবে বাংলাদেশ এর চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে।

তিনি আরও বলেন, সহস্রাব্দ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এইচআইভি/এইডস, ম্যালেরিয়া এবং অন্যান্য রোগব্যাধি দমনে শতভাগ সফল বাংলাদেশ। ১৯৯১ সালের তুলনয়ায় ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ শতাংশের বেশি কমে এসেছে। এন্ট্রিরেট্রোভাইরাল ড্রাগ সহজলভ্য করার মাধ্যমে এইচআইভি সংক্রমণ রোধ করা হয়েছে। সেই সাথে এইউস সর্ম্পকে জনসচেতনতা বাড়ানো হয়েছে ।

জাতিসংঘ ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিদেশি সাহায্য ও ঋণের পরিমান অনেক এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১১-১৫ সালের মধ্যে এমডিজির সকল লক্ষ্য অর্জনের জন্য বাংলাদেশের ৭৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউএস ডলার প্রয়োজন। সাধারণভাবে প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে এবং উচ্চ প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যথাক্রমে ৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার এবং ৩ বিলিয়ন ইউএস ডলার বৈদেশিক সহায়তার প্রয়োজন। তবে বাংলাদেশ গড়ে প্রতিবছর ১ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ইউএস ডলার ওডিএ(অফিসিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিসট্যান্স) পেয়েছে। যা কিনা উচ্চ প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রতি বছর প্রয়োজনীয় ৩ বিলিয়ন ইউএস ডলারে চেয়ে কম।

এইউ নয়ন/এসএম