স্তন ক্যান্সারের ৮ কারণ

0
107
BreastCancer
খারাপ অভ্যাসে বাড়তে পারে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি- ফাইল ছবি

শুধু অ্যাঞ্জেলিনা জোলি নয়, সারা বিশ্বের নারীদের কাছেই স্তন ক্যান্সার একটি আতঙ্ক। দিন দিন এর প্রকোপ বেড়েই চলেছে। তাই এটিকে হালকাভাবে নেওয়া মোটেই ঠিক নয়। দৈনন্দিন ছোটখাট কিছু খারাপ অভ্যাসের কারণে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন আপনি।

কাজেই জেনে নিন সেরকম ৮ টি খারাপ অভ্যাসের কথা যার কারণে ক্যান্সার বাসা বাঁধতে পারে আপনার স্তনেও!

এক. ভুল সাইজের বক্ষবন্ধনী ব্যবহারঃ

স্তনের আকার অনুযায়ী সঠিক মাপের ব্রা ব্যবহার করুন। তা না হলে এটি আপনার স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দিবে। বড় মাপের বক্ষবন্ধনী স্তনের টিস্যুগুলোকে ঠিকমত সাপোর্ট দিতে পারে না। আবার অতিরিক্ত ছোট বা টাইট ব্রা স্তনের তরলবাহী লসিকাগুলো কেটে ফেলতে পারে।তাই ভুল সাইজের বক্ষবন্ধনী ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

দুই. বক্ষবন্ধনী সারাক্ষণ পরে থাকাঃ

সারাক্ষণ বক্ষবন্ধনী পরে থাকার কারণে ঘাম নির্গত হতে অসুবিধা হয়। আবার আর্দ্রতা জমে থাকলেও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। তাই ঘরে থাকার সময়টুকুতে বক্ষবন্ধনী ব্যবহার না করাই ভালো।

তিন. লেবেল না দেখে ডিওডোরেন্ট কেনাঃ

আজকাল কর্মজীবী নারী থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীরা পর্যন্ত ঘামের দূর্গন্ধ এড়াতে ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করেন।এতে নিজের ফ্রেশ ভাবটা বজায় থাকে। কিন্তু এই ডিওডোরেন্ট কেনার সময় এতে কী কী উপাদান আছে তা খেয়াল রাখুন। কারণ এলুমিনাম বেসড উপাদান থাকলে তা স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে এটি প্রতিদিন ব্যবহার করতে চাইলে কোন কোম্পানির পণ্যটি ব্যবহার করবেন তা আগে একজন স্কিন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে জেনে নিন।

চার. কেমিকেলযুক্ত চুলের রঙ ব্যবহারঃ

চুল পাকা বা হাল ফ্যাশনের সাথে মানিয়ে নিতে চুলে রঙ করতে চাইলে সস্তার চুলের রঙ কিনে আনবেন না। এতে চুল তো পড়ে যাবেই, আবার এতে ব্যবহৃত ক্ষতিকর কেমিকেলের কারণে হতে পারে স্তন ক্যান্সার। তাই ভালো কোম্পানির ভেষজ চুলের রঙ ব্যবহার করুন। তবে মেহেদী ব্যবহার করলে তা একদিকে যেমন চুলের জন্যে ভালো, সেই সাথে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই।

পাঁচ. প্লাস্টিকের বক্সে সব সময় খাবার রাখাঃ

প্লাস্টিকের বক্সে খাবার রাখা এবং বিশেষত সেটিতেই ওভেনে গরম করা স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে। এর চেয়ে কাঁচের পাত্র ব্যবহার করুন।প্লাস্টিক ব্যবহার করতে চাইলে তা ফুড গ্রেড কিনা নিশ্চিত হয়ে নিন।

ছয়. এয়ার ফ্রেশনার ব্যবহারঃ

ঘরের দূর্গন্ধ এড়াতে এয়ার ফ্রেশনারের ব্যবহার দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। কিন্তু এতে থাকা প্যাথালেট নামক প্লাস্টিসাইজিং কেমিকেল সুগন্ধকে দীর্ঘস্থায়ী করতে সাহায্য করে। এটির সাথে স্তন ক্যান্সারের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাই দূর্গন্ধ দূর করতে ফুটন্ত পানিতে এক টুকরো দারুচিনি ফেলে দিন।দেখুন, ঘরময় কি সুগন্ধই না ছড়াচ্ছে!

সাত. কেমিকেলযুক্ত ক্লিনার ব্যবহারঃ

রান্নাঘরের সিঙ্ক বা কেবিনেট যে রঙিন তরল ক্লিনার দিয়ে আপনি পরিস্কার করছেন, তাতে থাকা কেমিকেল আপনার স্তন ক্যান্সারে ভূমিকা রাখতে পারে। শুধু তাই নয় বরং অন্য ধরনের ক্যান্সার ও বিভিন্ন ধরনের ক্রনিক রোগ যেমন মাইগ্রেন ও এলার্জির জন্ম দিতে পারে। তাই ক্লিনার ব্যবহার না করে ভিনেগার বা বেকিং সোডা দিয়ে পরিস্কার করাই ভালো।

আট. ন্যাপথলিনের ব্যবহারঃ

পোকামাকড়ের হাত থেকে বাঁচাতে আলমারির কাপড়চোপড়ে আমরা নেপথলিন ব্যবহার করে থাকি। অনেকে আবার বাথরুমের দুর্গন্ধ এড়াতে বেসিনের সিঙ্কেও ফেলে রাখেন কয়েকটি। কিন্তু এর ক্ষতিকর কেমিকেল শুধু পোকামাকড়কে ১০০ মাইল দূরেই রাখে না, বরং আপনার স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়ায় বহুগুণে। এর চেয়ে নিমপাতা শুকিয়ে কাগজে মুড়িয়ে রেখে দিন। উপকার পাবেন।

কাজেই স্তন ক্যান্সার থেকে দূরে থাকতে দৈনন্দিন জীবনের ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো সম্পর্কে সচেতন হউন। সুস্থ থাকুন।

এএসএ/