জনবল সংকটে বাংলাদেশ ব্যাংক

0
272
BB Bank
বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগো
BB Bank
বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগো (ফাইল ছবি)

জনবল সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। এতে দৈনন্দিন কাজ মারাত্নক ব্যাহত হচ্ছে।

অত্যধিক চাপে কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা ও অবসাদ কাজ করছে বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ব্যাংকটিতে ৩০ শতাংশের বেশি জনবল সংকট রয়েছে। জুলাই পর্যন্ত ব্যাংকটির মোট মানবসম্পদের চাহিদা ছিল ৮ হাজার ৪০ জন। এর বিপরীতে বর্তমানে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন মাত্র ৫ হাজার ৫৯২ জন।

প্রবল এ জনবল সংকটের বিপরীতে চলতি বছরের প্রথম ৭ মাসে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মাত্র ৮৫ জনকে।

নিয়োগপ্রাপ্ত এসব কর্মকর্তাদের মধ্যে আবার প্রায় শতাধিক কর্মকর্তা উচ্চ শিক্ষা ছুটি ও লিয়েনে (শর্তসাপেক্ষে ছুটি)-তে রয়েছেন। আর সাময়িক বরখাস্ত রয়েছেন ১২ জন।

জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি সংকট রয়েছে অফিসার পদে। এ পদে এক হাজার ১৪ জনের বিপরীতে জনবল আছে মাত্র ৩৩৬ জন। এছাড়া সহকারী পরিচালক পদে এখনও ৮১০ জন লোকের ঘাটতি রয়েছে। একই ভাবে ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ৭৩৭ জন এবং ‘ডি’ ক্যাটাগরিতে ২৫৫ জনের সংকট রয়েছে।

জেনারেল সাইডে মোট ৫ হাজার ১৮৩ জন লোকের চাহিদার বিপরীতে লোকবল রয়েছে মাত্র ৩ হাজার ৬২৪ জন। অর্থাৎ এখনও সংকট রয়েছে এক হাজার ৫৫৯ জনের। হিসাব শাখায় ৬৭৪ জন,  ইঞ্জিনিয়ার সাইডে ৮২ জন, কম্পিউটার সাইডে ৭৬ জন, এক্স ক্যাডারে ৪৪ জন, মেডিকেলে ৯ জন, পরিসংখ্যানে ৩ জন এবং রিসার্চ বিভাগে একজন লোকের সংকট রয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিটি বিভাগেই প্রয়োজনীয় লোকের সংকট রয়েছে। এ সংকট মেটাতে তাদের অধিক সময় ধরে কাজ করতে হচ্ছে। কখনও কখনও অনেক রাত পর্যন্তও কাজ করতে হয় বলে জানান তারা।

এসব কারণে সব সময় মানসিক চাপের মধ্যে থাকতে হচ্ছে তাদের। ফলে কর্মকর্তাদের মধ্যে অসুস্থ হওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানান তারা।

জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সংকট কাটাতে প্রতিবছরই এক থেকে দুই বার লোক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তারপরও এখনও প্রয়োজনীয় জনবল সংকট রয়েছে। ফলে কম লোক দিয়ে অধিক কাজ করাতে হচ্ছে। এতে অল্প বয়সে অসুস্থ হয়ে পড়ছে কর্মকর্তারা।

এদিকে কম বয়সে কর্মকর্তাদের এ অসুস্থতার কারণ খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিয়েছে খোদ পরিচালনা পর্ষদও।

মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা আরও  জানিয়েছেন, প্রতিশ্রুতি দিয়েও স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন না হওয়াতে কর্মকর্তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। তাছাড়া পদোন্নতির ক্ষেত্রে সৃষ্ট জটিলতা এড়াতে সংকট থাকার পরও প্রয়োজনীয় লোক নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না।

ইতোমধ্যে উচ্চ পর্যায়ে চাহিদার তুলনায় লোক কিছুটা বেশি হয়ে গেছে বলেও জানান তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র ম. মাহফুজুর রহমান অর্থসূচককে বলেন, আমাদের কিছুটা জনবল সংকট রয়েছে; তবে আমরা তা নিরসনের চেষ্টা করছি। এ গভর্নরের সময়ে প্রচুর লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিবছর এক থেকে দুইবার লোক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

অচিরেই এ সংকট কেটে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন এ নির্বাহী পরিচালক।