‘একটু সচেতনতাই আলো জ্বলতে পারে লাখ শিশুর চোখে’

0
104
child blind
child blind
অরবিস ইন্টারন্যাশনাল এবং নারী সাংবাদিক কেন্দ্র আয়োজিত ‘শিশু অন্ধত্ব’ শীর্ষক ওরিয়েন্টেশন কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা। ছবিটি শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের হল রুম থেকে তোলা। *অর্থসূচক*

একটু সচেতনতা ও চিকিৎসার প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে শিশু অন্ধত্ব দূর করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের হল রুমে অরবিস ইন্টারন্যাশনাল এবং নারী সাংবাদিক কেন্দ্র আয়োজিত ‘শিশু অন্ধত্ব’ শীর্ষক ওরিয়েন্টেশন  কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা এ কথা জানান।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) তথ্য তুলে ধরে বক্তারা জানান, বাংলাদেশে প্রতি এক হাজার শিশুর মধ্যে ০.৭৫ জন অন্ধত্বের শিকার।

বাংলাদেশ শিশু অন্ধত্ব গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়, দেশে বর্তমানে ৪৮ হাজার শিশু অন্ধ, প্রায় ১৩ লাখ শিশু দৃষ্টিত্রুটি এবং ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬শ’ শিশু ক্ষীণদৃষ্টি সমস্যায় আক্রান্ত। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে এদের মধ্যে ৭৮ হাজার ৩ শ’ ৩৬ জন এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেত।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতিরোধযোগ্য শিশু অন্ধত্ব এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা; যা দারিদ্র্য সৃষ্টি করে এবং আর্থ-সামাজিক বৈষম্য বাড়ায়। এক্ষেত্রে একটু সচেতন হলে আলো দিতে পারে লাখ শিশুর চোখে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে অন্ধ ও ক্ষীণদৃষ্টিসম্পন্ন শিশুরা শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়াসহ সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং অধিক দারিদ্র্যের কবলে পড়ার ঝুঁকির মধ্যে থাকে। সংশ্লিষ্টদের সচেতনতা; প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণ নির্ণয়; চিকিৎসা এবং চিকিৎসা-পরবর্তী যত্ন রক্ষা বা পুনরুদ্ধার করতে পারে এসব শিশুর দৃষ্টিশক্তি। শিশু অন্ধত্ব বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে গণমাধ্যমও বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

কর্মশালায় জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক অফথালমোলোজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এনায়েত হোসেন শিশু অন্ধত্বের নানা দিক, সেগুলোর প্রতিরোধ, নির্ণয় ও চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করেন।

কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনীর আহমেদ, ডিরেক্টর প্রোগ্রাম মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, ডা. নাহিদ ফেরদৌসী, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক পারভীন সুলতানা ঝুমা প্রমুখ।

এমআই/এস রহমান/