হিটলারের বাথটাবে …

0
72
Lee Miller at Hitler's bathtub
হিটলারে বাথটাবে গোসলরত মিলারের এই ঐতিহাসিক ছবিটিও মার্কিন সাংবাদিক শারমানের তোলা।

হিটলারের মৃত্যুর সংবাদ প্রচারের সময় আমি তার অ্যাপার্টমেন্ট ‘মিউনিকে’ ছিলাম। এমনটাই জানান দিলেন প্রয়াত মডেল ও ফটোগ্রাফার লি মিলার। তিনি নাৎসি বাহিনীর কর্মকর্তা বা তাদের মিত্রবাহিনীর সদস্য ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন ফটোসাংবাদিক।

Lee Miller at Hitler's bathtub
হিটলারে বাথটাবে গোসলরত মিলারের এই ঐতিহাসিক ছবিটিও মার্কিন সাংবাদিক শারমানের তোলা।

রণাঙ্গনে মিত্র বাহিনীর সঙ্গে কাজের এক পর্যায়ে ক্লান্ত মিলার ও তার সহকর্মী সারমান হিটলারের গোপন আস্তানায় প্রবেশ করেছিলেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্যই মিউনিকে গিয়েছিলেন তারা।

১৯৪৫ সালের ৩০ এপ্রিল বার্লিনে হিটলারের মৃত্যুর দিনে মিউনিখের বাড়িতেই তারা বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। রণাঙ্গন থেকে ফিরে কাদামাটি মাখা বুট জোড়া বাথরুমের মেঝেতে খুলে রেখে হিটলারের বাথটাবেই গোসল করেছিলেন ক্লান্ত মিলার।

হিটলারের বাথটাবে গোসলরত ছবিসহ লি মিলারের সংগ্রহের অনেক ঐতিহাসিক ছবি, নথিপত্র ও দলিল, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সংগ্রহ করা স্মারকের কথা জানা গেছে। ১৯৭৭ সালের ২১ জুলাই মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ব্রিটেনে ছিলেন তিনি। তার মৃত্যুর পর বাড়ির চিলেকোঠায় কিছু পুরোনো ট্রাঙ্কের ভেতর মায়ের দুর্লভ সংগ্রহের খোঁজ পান তার ছেলে অ্যান্টনি পেনরোজ।

পেনরোজ জানিয়েছেন, ৬০ হাজারেরও বেশি অরিজিনাল নেগেটিভ, ২০ হাজারের মতো প্রিন্ট ও কন্টাক্ট শিট এবং কয়েক হাজার নানা নথিপত্র ও পাণ্ডুলিপি আছে মিলারের সংগ্রহশালায়। এই বিপুল সংগ্রহের একাংশ সম্প্রতি যুক্ত করা হয়েছে লি মিলারস আর্কাইভসে। গত ২৩ এপ্রিল মিলারের জন্মদিনে নতুন করে সাইটটি উন্মুক্ত করেন পেনরোজ। সেখানে প্রায় তিন হাজার ছবি রয়েছে।

মিলারের জবানিতে রণাঙ্গনে মিত্রবাহিনীর পশ্চিম ইউরোপ অভিযানের নিয়ে বই লিখেছেন পেনরোজ। মায়ের কাছ থেকে শোনা গল্প নিয়ে লিখেছেন তার দ্বিতীয় বই ‘লি মিলারস ওয়ার: বিয়ন্ড ডি-ডে’।

Lee Miller
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি বাহিনীর সঙ্গে ফটো সাংবাদিকের কাজ করেছিলেন লি মিলার ও তার সহযোগী সারমান। এরপর চলে যান ব্রিটেনে।

১৯০৭ সালের ২৩ এপ্রিল নিউইয়র্কে জন্মেছিলেন লি মিলার। ১৯২৭ সালে প্রথমবারের মতো ভোগ সাময়িকীর প্রচ্ছদে স্থান পায় শিল্পী জর্জ লিপেপের আঁকা মিলারের মুখচ্ছবি। এরপর নিয়মিতই সাময়িকীটির সঙ্গে কাজ শুরু করেন মিলার। সমকালীন পরাবাস্তববাদী শিল্প-আন্দোলনের খ্যাতিমান শিল্পী মান রে’র সঙ্গে পরিচয় হয় তার। বন্ধুত্ব থেকে প্রেমের সুবাদে প্যারিসে পাড়ি জমান মিলার। মান রে’র সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর ১৯৩২ সালে আবার নিউইয়র্কে ফিরেন তিনি।

১৯৩৪ সালে মিসরীয় ব্যবসায়ী আজিজ এলুই বাইকে বিয়ে করে নিউইয়র্ক ছাড়েন মিলার। আজিজকে ছেড়ে ১৯৩৭ সালে আবারও প্যারিসে ফিরেন তিনি। প্যারিসে ফেরার পর ব্রিটিশ পরাবাস্তববাদী শিল্পী ও শিল্প-সংগঠক রোলান্ড পেনরোজের সঙ্গে পরিচয় হয় মিলারের। তাকে বিয়ে করে ব্রিটেনে পাড়ি জমান মিলার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুর দিকে লন্ডনে ছিলেন মিলার।

১৯৪২ সালের ডিসেম্বরে ভোগ সাময়িকীর ফটো সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন মিলার। লাইফ সাময়িকীর মার্কিন সাংবাদিক ডেভিড ই শারমানকে নিয়ে যুদ্ধের ছবি তুলতে ফ্রান্সের রণাঙ্গনে যান তিনি। মিত্র বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যন্ত কাজ করেন তিনি।

বিশ্বযুদ্ধের শেষে অ্যাডলফ হিটলার যখন পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে তখন মিউনিকে যান মিলার ও শারমান। ১৯৪৫ সালের এপ্রিলে মিত্র বাহিনীর কাজের শেষ সময়ে হিটলারের গোপন আস্তানার খোঁজ পান তারা।

এমই/