শ্রমবাজারের দরজা খুলছে আমিরাত

0
139
Dubai
দুবাই
Dubai
দুবাই

বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য ফের খুলছে সংযু্ক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ শ্রমবাজারটি দুই বছর ধরে বন্ধ। প্রবাসী শ্রমিকদের নানা অপরাধের অজুহাত দেখিয়ে ২০১২ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশী শ্রমিকদেরকে ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দেয় দেশটি।

দীর্ঘ কূটনৈতিক তৎপরতার পর অবশেষে বরফ গলেছে। বাংলাদেশ থেকে আবার জনশক্তি আমদানিতে সম্মত হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। প্রধানমন্ত্রীর আমিরাত সফরকালে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। আগামী মাসে প্রধানমন্ত্রীর ওই সফর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, শ্রমিকসহ বিভিন্ন ভিসায় যাওয়া প্রায় ২৪ লাখ বাংলাদেশি বর্তমানে কাজ করছে মধ্যপ্রাচ্যের উন্নত দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে। সৌদি আরবের পর সবচেয়ে বড় এ শ্রমবাজারে এক সময় প্রতি বছর ২ থেকে ৩ লাখ শ্রমিক রপ্তানি হতো। ২০১২ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে সেদেশের সরকার শ্রমিকদের নানা অপরাধের কথা বলে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা থেকে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করে দেয়।

পরবর্তীতে অন্য তিন দেশের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও বাংলাদেশকে বাইরে রাখা হয়।

২০১৩ সালের প্রথমদিকে ‘ওয়ার্ল্ড এক্সপো ২০২০’র ভেন্যু নির্বাচনে প্রার্থী হয় আরব আমিরাত। তখন ভিসা দেওয়ার কথা বলে বাংলাদেশের কাছে ভোট চায় দেশটি। বাংলাদেশ আমিরাতকে ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রূতিও দেয়। কিন্তু শেষপর্যন্ত সেখান থেকে সরে আসে সরকার। ওই ভোট পায় রাশিয়া। এতে দারুণ ক্ষুব্ধ হয় আমিরাত। তাই নিষেধাজ্ঞা আর উঠেনি।

সূত্র আরও জানায়, বড় এই শ্রম বাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রচণ্ড চাপে পড়ে সরকার। রেমিট্যান্স প্রবাহে দেখা দেয় নেতিবাচক ধারা। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ দায়িত্বশীলরা দফায় দফায় দেশটিতে সফর করেন।

গত মাসে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের দেশটিতে সফর করলে তাকে বাংলাদেশিদেরকে ভিসা দেওয়ার ব্যাপারে আশ্বাস দেয়। তবে সবকিছু প্রধানমন্ত্রীর আমিরাত সফরকালে চুড়ান্ত হবে বলে অর্থসূচককে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী অর্থসূচককে বলেন, একটি কুটনৈতিক সমস্যার কারণে আমিরাতে প্রায় দুই বছর শ্রমিক রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। তবে এখন তারা শ্রমিক নিতে রাজি হয়েছে। এ মাসে আমাদের একটি টেকনিক্যাল টিম দেশটিতে যাবে। আর অক্টোবর মাসের ২০ থেকে ৩০ তারিখের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেদেশের সরকারের আমন্ত্রণে সফর করার পরই শ্রমিক রপ্তানি শুরু হবে।

বাংলাদেশ জনশক্তি রপ্তানি ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যমতে, ২০০৬ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে জনশক্তি রপ্তানিতে ব্যাপক গতি সঞ্চার হয়। সে বছর ১ লাখ ৩১ হাজার শ্রমিক যায় দেশটিতে। পরের বছর ২০০৭ সালে ১ লাখ ২৭ হাজার ও ২০০৮ সালে সর্বাধিক ৪ লাখ ১৯ হাজার ৩৫৫ জন শ্রমিক বিভিন্ন ভিসায় আমিরাতে যায়।

এরপর ২০০৯ সালে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৩৪৮ জন, ২০১০ সালে দুই লাখ তিন হাজার ৩০৮ জন, ২০১১ সালে দুই লাখ ৮৯ হাজার ৭৪২ জন ও ২০১২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত দুই লাখ ১৫ হাজার ৪৫২ জন শ্রমিক কাজ করতে দেশটিতে যায়।

শ্রমিকদের বড় অংশ ইলেকট্রিশিয়ান, পাইপফিটার, রাজমিস্ত্রী, কৃষক, ড্রাইভার, টেইলর,  ক্লিনার, হোটেলবয়, দোকানের কর্মচারী হিসেবে কাজ করছে।

২০১২ সালের নভেম্বরে শুধু টুরিস্ট (পর্যটক), ভিজিট ও কনফারেন্স ভিসা ছাড়া বাকী সব ক্যাটাগরিতে ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দেয়। টুরিস্ট, ভিজিট ও কনফারেন্স ভিসাতেও আরোপ করা হয় কড়াকড়ি।

এর পর গত দুই বছরে ২৭ হাজারের ৯৪০ জন বাংলাদেশি দেশটিতে গেলেও তা ব্যক্তি উদ্যোগ ও শ্রমিক ভিসার বাহিরে। এ সময়ে যাওয়া এসব বাংলাদেশিদের মধ্যে টুরিস্ট, ভিজিট ও কনফারেন্স ভিসা অন্যতম। তবে সেখানে বাংলাদেশি ব্যবসায়ি ও প্রভাবশালী কর্মজীবিরা তাদের আত্মীয়-স্বজনদের জন্য কিছু ভিসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিএমইটি সূত্র।