বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ নানা আয়োজন

0
117
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ

বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী শুক্রবার।

১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোর জেলার গোয়ালহাটি ও ছুটিপুরে পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে মৃত্যুবরণ করেন রণাঙ্গনের লড়াকু সৈনিক নূর মোহাম্মদ। যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর গ্রামে তাকে সমাহিত করা হয়।

nur-mohammad
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের কবরস্থান। ছবি- আহমেদ নাসিম আনসারী

নূর মোহাম্মদ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার চণ্ডীবরপুর ইউনিয়নের মহিষখোলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন (বর্তমানে নূর মোহাম্মদ নগর)। বাবা মোহাম্মদ আমানত শেখ ও মা জেন্নাতুন্নেছা। মতান্তরে জেন্নাতা খানম। বাল্যকালেই তিনি বাবা-মাকে হারান। লেখাপড়া করেছেন সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত। এরপর ১৯৫৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে (ইপিআর, বর্তমানে বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ-বিজিবি) যোগদান করেন। দিনাজপুর সীমান্তে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে ১৯৭০ সালের ১০ জুলাই বদলি হন যশোর সেক্টরে।

পরে তিনি ল্যান্স নায়েক পদোন্নতি পান। মুক্তিযুদ্ধের সময় যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৮নং সেক্টরে অংশগ্রহণ করে যুদ্ধ করেন। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার নেতৃত্বে যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর সীমান্তের বয়রা অঞ্চলে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন নড়াইলের এ সাহসী সন্তান (নূর মোহাম্মদ)।

এ সময় এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৮নং সেক্টর কমান্ডার ছিলেন কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরী এবং সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মেজর এস এ মঞ্জুর। এদের নেতৃত্বেও প্রাণপণ লড়েছেন নূর মোহাম্মদ। ৫ সেপ্টেম্বর পাকবাহিনীর গুলিতে সহযোদ্ধা নান্নু মিয়া গুরুতর আহত হলেও সহযোদ্ধাকে কাঁধে নিয়েই এলএমজি হাতে শত্রু পক্ষের সাথে যুদ্ধ করেছেন। গুলি ছুড়েছেন। হঠাৎ করে পাকবাহিনীর মর্টারের আঘাতে নূর মোহাম্মদের হাঁটু ভেঙ্গে যায়। তবুও গুলি চালান। শক্রমুক্ত করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যান। এক সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসিকতা ও শক্রমুক্ত করার জন্য তাকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ’র খেতাব দেওয়া হয়। বর্তমানে তার স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেসা, ছেলে গোলাম মোস্তফা কামাল ও তিন মেয়ে আছেন।

এ বীরের সম্মানার্থে নড়াইল শহর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ চত্বরে ৬২ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর’ নির্মাণ করা হয়েছে। ২০০৮ সালের ১৮ মার্চ কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরৗ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করেন।

এদিকে, ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে নূর মোহাম্মদের বাড়িতে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হলেও প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে কাজ শেষ হয়নি।

তার শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ নূর মোহাম্মদ শেখ ট্রাস্ট’ এর আয়োজনে নানা কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ট্রাস্টের সদস্য সচিব আজিজুর রহমান ভূঁইয়া জানান, শুক্রবার সকাল ৯টায় নূর মোহাম্মদ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তনে কোরআনখানি, বেলা ১১টায় নূর মোহাম্মদ নগরে র‌্যালি ও স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জাদুঘর মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল হয়েছে। এছাড়া যশোর জেলার শার্শা উপজেলার কাশিপুর গ্রামে নূর মোহাম্মদ শেখের কবর জিয়ারত করা হয়েছে।

এফকে/সাকি