সিভিও পেট্রো পরিদর্শনে দুই সচিব

0
116
CVO_logo
সিভিও পেট্রো কেমিক্যাল রিফাইনারির লোগো
CVO_logo
সিভিও লোগো

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি লিমিটেডের কারখানা পরিদর্শনে যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্র এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর কারখানা পরিদর্শন করবেন তারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা যায়, গত বছরের নভেম্বর মাসে কোম্পানিটি পরিশোধন পরবর্তী জ্বালানি তেল উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্লান্ট স্থাপন সম্পন্ন করে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রতি বছর ৫০ হাজার এবং প্রতিদিন ১৫০ মেট্রিক টন কনডেনসেট পরিশোধন জ্বালানি তেল উৎপাদন করবে প্রতিষ্ঠানটি। যদিও কোম্পানিটি প্রতিদিন ১৮০ মেট্রিক টন উৎপাদন করতে পারবে বলে কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে।

কারখানা পরিদর্শনের বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোম্পানির উর্ধ্বনত এক কর্মকর্তা অর্থসূচককে বলেন, আগামী শনিবার স্বরাষ্ট্র এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব সিভিও পেট্রোলিয়ামের কারখানা পরিদর্শনে আসছেন।

তিনি বলেন, বর্তমনে আমাদের কোম্পানিটি ৩ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন করছে। এটিকে আমরা ৫০ হাজার মেট্রিক টনে নিয়ে যেতে চাই। এটির সর্বশেষ কী অবস্থা সরাসরি কারখানা পরিদর্শন করে তারা তা দেখবেন।

জানা যায়, গত ৩ অক্টোবর দেওয়া জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তিপত্রের শর্ত অনুযায়ী যথাযথ নিয়মে প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে কি-না তা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এবং পেট্রোবাংলার প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে পরিদর্শন করে এ অনাপত্তিপত্র দিয়েছে।

কোম্পানিটির পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবছর ৫০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি উৎপাদনের দাবি জানানো হলেও মাত্র ৩ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষামূলক উৎপাদন শেষ হওয়ায় কোম্পানিটি পূর্ণ উৎপাদনের অনুমতি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন কার্যক্রম শুরুর পূর্বে সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানিকে সরকারের কাছ থেকে বরাদ্দ পেতে গত ১৬ মার্চ সিলেট গ্যাস ফিল্ড কোম্পানির সঙ্গে একটি ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি করে।

প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনের সময় বর্জ্যসহ তরল গ্যাস পাওয়া যায়, যা কনডেনসেন্ট নামে পরিচিত। সিভিও পেট্রোকেমিকেলে কনডেনসেট থেকে পেট্রোল, ডিজেল, এমটিটি এবং থিনার উৎপাদন করা হবে।

১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত চিটাগং ভিজিটেবল অয়েল (সিভিও) ২০১০ সালে সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি লিমিটেডে রূপান্তরিত হয়। এর আগে চিটাগং ভিজিটেবল অয়েল ফুলকপি, সয়াবিন তেল, গোল্ড কাপ ঘিসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করে লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি স্বর্ণা জৈবসারসহ অন্যান্য পণ্য বিপণনে যুক্ত হয়। তবে সেখানেও সাফল্যের দেখা যায়নি তারা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, ২০০০ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত টানা লোকসান দিয়েছে কোম্পানিটি।পেট্রো রিফাইনারিতে রূপান্তরের মাধ্যমে ২০১০ সালে কোম্পানিটি লোকসান থেকে বের হয়ে আসে। এখন বড় পরিসরে উৎপাদনে গেলে কোম্পানিটি কেমন করে তা দেখার বিষয়।