‘পোশাক আমদানি কমাবে না ইইউ’

0
87
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নে পরিবর্তিত জিএসপি: বাংলাদেশের করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে উপস্থিত বক্তারা
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নে পরিবর্তিত জিএসপি: বাংলাদেশের করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে উপস্থিত বক্তারা
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নে পরিবর্তিত জিএসপি: বাংলাদেশের করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে উপস্থিত বক্তারা

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি কমাবে না বলে জানিয়েছেন দ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন অব ডেফ (ইইউডি) এর মিনিস্টার কাউন্সিলর ফ্রেডেরিক মাদুরাউড।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নে পরিবর্তিত জিএসপি: বাংলাদেশের করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এই কথা জানান।

বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের (বিএফটিআই) প্রধান নির্বাহী ড. মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান ও জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী, বাণিজ্য সচিব হেদায়াতুল্লাহ আল মামুন, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম, বিকেএমইএ সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, মনোজ কুমার রায়, জিল্লুর হাই রাজি প্রমুখ।

সেমিনারের মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বিএফটিআই এর পরিচালক ড. মোস্তাফা আবিদ খান।

ফ্রেডেরিক মাদুরাউড বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশের পোশাক শিল্প কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেশটির প্রধান রপ্তানিমুখী শিল্পকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নিয়েছে। ইইউ এদেশ থেকে পোশাক আমদানি কমাবে না।

তিনি বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর এই খাতে ব্যাপক সংস্কার হয়েছে। বিশেষ করে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, কম্প্লায়েন্স ইস্যুতে কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ, শ্রম আইন সংশোধন, ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। তাই ইইউ দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নে পাশে থাকতে চায়।

ড. মশিউর রহমান বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের আধিপত্য বাড়াতে হলে শিল্পায়নে নতুন খাতের সংযোগ করতে হবে। সেটা সম্ভব হবে জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উন্নতির মাধ্যমে। যদি জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উন্নতি ঘটানো সম্ভব হয়; তাহলে পণ্যের বহুমুখীকরণ আরও সহজ হবে।

তিনি বলেন, কারখানাগুলোতে শ্রমিকের দক্ষতা ও নিরাপত্তা বজায় থাকলে উদ্যোক্তারা আরও চাহিদাসম্পন্ন বাজারে প্রবেশ করতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো না। তবে তাদের দেওয়া সুযোগগুলোকে কাজে লাগিয়ে বাজার দখল করতে পারবো।

ড. তৌফিক-ই-ইলাহী বলেন, এখন দেশের হাজার হাজার তরুণ উদ্যোক্তা বৈশ্বিকভাবে ব্যবসায় নতুন বাজার সৃষ্টির কাজ করছে। এর মাধ্যমে পণ্যের বহুমুখীকরণ ও বাজার সম্প্রসারণ করা সম্ভব হচ্ছে। যা ইউরোপীয় বাজারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, ইইউ বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের প্রধান গন্তব্যস্থল। সেখানে জিএসপি প্লাস পাওয়ার জন্য বিভিন্ন কৌশল ও রপ্তানির নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, পোশাক শিল্প দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ষড়যন্ত্র্রের শিকার হচ্ছে। তবে কম্প্লায়েন্স ইস্যুতে বিজিএমইএ জিরো টলারেন্স দেখাচ্ছে।

বিকেএমইএ সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ইইউ বাংলাদেশ পোশাকের প্রধান বাজার। যেখান থেকে এই খাতের ৬০ দশমিক ২৭ শতাংশ অর্জন হয়ে থাকে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ ১৪.৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি করেছে, যা অন্য বছরের চেয়ে ১৮.১৬ শতাংশ বেশি। আর ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে এখন পর্যন্ত এখানকার প্রবৃদ্ধির হার ২০.০৬ শতাংশ।

সেমিনারে বক্তারা ইইউর বাজারে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য খাতে রপ্তানি বাড়াতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর জোর দেন। ইউরোপের জিএসপি সুবিধায় বাংলাদেশের বাজারকে আরও শক্তিশালী করতে শিল্পখাতে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি শ্রমিকের দক্ষতা, নিরাপত্তা, নতুন বাজার সৃষ্টি, পণ্যের বহুমুখীকরণসহ অবকাঠামোখাতের উন্নতি দরকার বলে মনে করেন তারা।