‘বেকারদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন পথ সুগমে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে’

0
141
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩ সেপ্টেম্বর বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নত্তোর পর্বে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আরও অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পোশাক শিল্পের পাশাপাশি হালকা প্রকৌশল, জাহাজ নির্মাণ, কৃষি ব্যবসা, তথ্য প্রযুক্তি এবং ওষুধ শিল্পকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে শ্রমঘন খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩ সেপ্টেম্বর বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নত্তোর পর্বে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। পিআইডি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩ সেপ্টেম্বর বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নত্তোর পর্বে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। পিআইডি

তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১১-১৫)-এর কৌশল ও লক্ষ্যমাত্রার ভিত্তিতে বর্তমান সরকার বিগত মেয়াদে ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বুধবার সংসদে তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মো. রুস্তম আলী ফরাজীর এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রতিবছর ৩ দশমিক ২ হারে শ্রমশক্তির বৃদ্ধি এবং কৃষি ও অনানুষ্ঠানিক সেবা খাতে উচ্চমাত্রার ছদ্মাবেশী কর্মসংস্থান থাকার প্রেক্ষিতে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় উৎপাদনশীল আনুষ্ঠানিক খাতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে মানবসম্পদে রূপান্তরিত করার মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় গৃহীত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে দেশের তরুণ প্রজন্মকে প্রধান নিয়ামক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০২১ সালের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে আইসিটি শিক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আউটসোর্সিং-এর সুযোগ গ্রহণ করে দেশের শিক্ষিত বেকার যুবকদের ঘরে বসে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ সুগম করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৫ সাল নাগাদ শিল্প খাতের কর্মসংস্থান ১৬ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশে উন্নীত করার মাধ্যমে শ্রমবাজারে নবাগতদের জন্য উচ্চ মজুরীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশে যুগোপযোগী কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষার উপর গুরুত্ব দিয়ে দেশের বেকার ও তরুণ যুবকদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করার লক্ষ্যে ২০১৫ সাল নাগাদ প্রতিটি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, মেয়েরা যাতে আরো বেশি সংখ্যায় কর্মজগতে প্রবেশ করতে পারে সে লক্ষ্যে সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণমূলক কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করা এবং মেয়েদেরকে কম্পিউটার শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তৈরি করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা অর্জন, গবেষণা ও উন্নয়ন সাধন এবং কারিগরি জ্ঞান আদান-প্রদান ‘টেকনলজি ট্রান্সফার’ করার উদ্যোগ গ্রহণ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, জাতীয় শিল্পনীতি-২০১০-এ স্থানীয় শিল্প প্রতিরক্ষণে অধিক মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী পূর্ণাঙ্গ ও স্থানীয় উৎপাদনমুখী শিল্পে প্রণোদনার সংস্থান রাখা হয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প নিয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, এ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) শিল্প পার্ক (২য় সংশোধিত) স্থাপন, বিসিক টেক্সটাইল শিল্প নগরী, কুমারখালী, কুষ্টিয়া (২য় সংশোধিত) স্থাপন, আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মৌচাষ উন্নয়ন, ‘ইনটেগ্রেটেড প্ল্যান ফর এক্সটেনশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট সিরিকালচার ইন বাংলাদেশ’ বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি খাতে রেশম চাষ সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প’ রেশম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে বৃহত্তম রংপুর জেলার দারিদ্র্য হ্রাসকরণ, হাতে কলমে কারিগরি প্রশিক্ষণে মহিলাদেরকে গুরুত্ব দিয়ে বিটাকের কার্যক্রম সম্প্রসারণ পূর্বক আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন (সংশোধিত), ‘বাংলাদেশ ইকোনমিক গ্রোথ প্রোগ্রাম’ (৩য় সংশোধিত)সহ বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইসিটি খাতকে কর্মসংস্থানের একটি বিপুল সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আইসিটি খাতে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। দুটি প্রকল্পে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ৮৫ হাজার দক্ষ জনবল সৃষ্টি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে ২০ হাজার নারীকে বেসিক আইটি/আইসিটি লিটারেসি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে ৩৫ হাজার জনবলকে আউটসোর্সিং কাজে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বেসিক আইটি/আইসিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প, হালকা প্রকৌশল শিল্প, ওষুধ শিল্প স্থাপন করে চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের প্রবৃদ্ধি অতীব গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি বাংলাদেশের প্রস্তুতকৃত পণ্য ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এদেশের প্রায় ৯০ ধরনের প্রক্রিয়াজাতকৃত খাদ্য সামগ্রী পৃথিবীর ৭০টির বেশি দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মুন্সিগঞ্জে প্রায় ৭’শ একর জমির উপর গার্মেন্টস পল্লী স্থাপন ছাড়াও দেশের ৫টি স্থানে মংলা, সিরাজগঞ্জ, সিলেটের শেরপুর, চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও মীরেরশ্বরাই এ পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপের আওতায় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে।

এছাড়াও আরও ১৩টি স্থান অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এ সকল স্থানে জাপান, চীন, কোরিয়া, ভারতসহ ইউরোপ ও আমেরিকার উদ্যোক্তাগণ বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। শ্রমঘন এ সব শিল্পে বিপুল সংখ্যক লোকের কর্মসংস্থান হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রূপকল্প ২০২১ অনুযায়ী বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি)তে উন্নত একটি ডিজিটাল জাতিতে পরিণত হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা মেয়াদে ২০১০-১১ অর্থবছর থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছর পর্যন্ত মোট ১ কোটি ৪ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, যা চাকরির বাজারে নবাগত প্রায় ৯২ লাখের সবাইকে আত্মীভূত করার জন্য যথেষ্ট সহায়ক হবে। এছাড়াও, কৃষি থেকে প্রায় ১২ লাখ শ্রমিককে এ খাতগুলোকে আত্মীভূত করা সম্ভব হবে। এছাড়াও, প্রতিবছর প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ শ্রমিক কাজ নিয়ে বিদেশে যাচ্ছে।

ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বিবৃত দিক-নির্দেশনা ও পরামর্শ অনুযায়ী মন্ত্রণালয়/বিভাগসমূহ কর্তৃক বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত করা হলে বেকারত্ব সমস্যার নিরসন হবে বলে তিনি জানান।

সূত্র: বাসস
সাকি/