ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল

জলদস্যুদের দৌরাত্ম

0
70
Meghna Hilsha
মেঘনায় জেলেদের নৌকা।

ইলিশের মৌসুম শুরু হয়েছে প্রায় ২ মাস আগে; এখন চলছে ভরা মৌসুম। অথচ উপকূলবর্তী নদ-নদীতে বলতে গেলে দেখাই মিলছে না ইলিশের। তাই বিগত বছরগুলোতে এমন সময় মাছের ঘাট সরগরম থাকলেও এবার নেই। এজন্য জলবায়ু পরিবর্তন, নদী দূষণ, নির্বিচারে জাটকা নিধন, অতিমাত্রায় ডিমওয়ালা ইলিশ ধরা ও কারেন্ট জালের অবাধ ব্যবহারসহ জলদস্যুদের দৌরাত্মকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Meghna Hilsha
মেঘনায় জেলেদের নৌকা।

ইলিশের রাজধানী হিসেবে খ্যাত চাঁদপুর। চলতি বছর সেখানেও ইলিশের চরম সংকট । চাঁদপুর বড় স্টেশন রপ্তানি কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, গত বছর এই মৌসুমে ১০০ টনেরও বেশি ইলিশ রপ্তানি হয়েছে। কিন্তু চলতি বছর রপ্তানির পরিমাণ অনেক কম।

চাঁদপুর রেলওয়ে বড় স্টেশন টিওয়াইএ শহীদুল্লাহ জানান, ২০১৩ সালে আগস্ট পর্যন্ত ইলিশ রপ্তানিতে সরকারের রাজস্ব আয় হয় ৩ লাখ টাকা । কিন্তু চলতি বছর রাজস্ব আয় হয়েছে তার অর্ধেক। আগস্ট পর্যন্ত ট্রেনে ইলিশ রপ্তানিতে মাত্র ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা রাজস্ব আয় করা গেছে।

ইলিশের সংকট জানিয়ে ভোলার মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, গত মৌসুমে ভোলায় ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ আহরিত হলেও এ বছর তা কমতে পারে।

বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু অর্থসূচককে বলেন, গতবারের তুলনায় বরিশালে এবার ইলিশ কম। তবে শিগগিরই ইলিশের সরবরাহ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ মৌসুমে প্রাকৃতিক কারণে বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবন উপকূলের নদ-নদীতেও ইলিশের সংখ্যা কম। এছাড়া জলদস্যুদের ভয়ে ইলিশ সংগ্রহে যাচ্ছেন না জেলেরা।

মংলার বৈদ্যমারী এলাকার জেলে খালেক গাজী বলেন, দিন-রাত জাল ফেলে নদীতে দাপিয়ে দু’একটি ইলিশ ধরা পড়লেও তা আকারে ছোট। তবে জালে ইলিশ পড়ুক বা নাই পড়ুক দস্যুদের চাঁদা দেওয়া বাধ্যতামূলক। চাঁদা না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দেয় তারা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সিকদার অর্থসূচককে জানান, ভরা মৌসুম জেনেও অপহরণকারীদের ভয়ে জেলেরা মাছ ধরতে যাচ্ছেন না।

তিনি জানান, সম্প্রতি বরগুনার তালতলী ও পাথরঘাটা, পটুয়াখালীর কলাপাড়া, গলাচিপা, ভোলার দৌলতখান, মনপুরা, চরফ্যাশন, নোয়াখালী হাতিয়া, সুবর্ণচর, লক্ষ্মীপুরের রামগতি, কমলনগর, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও হিজলা এলাকার শতাধিক মাঝিকে জলদুস্যরা অপহরণ করেছে।

আনোয়ার হোসেন জানান, প্রত্যেকের জন্য ২/৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে তারা। কেউ কেউ নিজের ভিটে-মাটি বিক্রি করে মুক্তিপণ দিয়ে জীবন রক্ষা করেছে। এ অবস্থায় নতুন করে কেউ নদীমুখী হতে সাহস পাচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালি থেকে আগস্টের ২৬ থেকে ৩১ তারিখ পর্যন্ত ১৯ জন জেলেকে জলদস্যুরা ধরে নিয়ে গেছে। এখনও তাদের খোঁজ মেলেনি। এ বিষয়ে প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার।