সক্ষমতা সূচকে ১ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ

0
52

বিশ্ব প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচকে একধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ১৪৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এবার ১০৯তম; গতবছর যা ছিল ১১০। সুইজারল্যান্ডের জেনেভাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) প্রকাশিত ‘গ্লোবাল কম্পিটিটিভনেস রিপোর্ট ২০১৪-১৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।world-economic-forum

বুধবার ডব্লিউইফের ওয়েবসাইটে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিযোগিতা সক্ষমতার এবারের তালিকার শীর্ষে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। এরপর পর্যায়ক্রমে রয়েছে সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, জাপান, হংকং, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য ও সুইডেন। আর সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে গায়ানা।

স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অবকাঠামো, শ্রম বাজারের সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি, উদ্ভাবনী ব্যবসাসহ ১২টি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সূচকটি তৈরি করে ডব্লিউইএফ।

অর্থনীতির ক্রমোন্বতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও বিশ্বঅর্থনীতি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করেছে ডব্লিউইএফ।

প্রতিবেদনে ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে এবার যেসব বিষয় উঠে এসেছে তা হলো- দুর্নীতি, আমলাতন্ত্রের দৌরাত্ম্য, আয়কর আইন, কর প্রদান পদ্ধতি, অবকাঠামোগত দূরবস্থা, মূলধনের স্বল্পতা ইত্যাদি।

সূচকটি তৈরিতে দেশগুলোর সক্ষমতা, উৎপাদনশীলতা ও উন্নতি বিষয়ে ৭ নম্বরের একটি স্কেল করা হয়। ওই স্কেল অনুযায়ী এবারে সুইজার‌ল্যান্ডের স্কোর ৫ দশমিক ৭। আর সর্বশেষ স্থানে থাকা গায়ানার স্কোর ২ দশমিক ৮।

এবার বাংলাদেশের স্কোর ৩ দশমিক ৭।

উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে ৪ স্কোর নিয়ে সূচক তালিকায় গ্রিসের অবস্থান সর্বনিম্ন। মন্দাকবলিত গ্রিস প্রতিযোগিতা সক্ষমতার মূল তালিকায় ৮১তম স্থানে রয়েছে।

এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে ৫ দশমিক ২ স্কোর নিয়ে সর্বাচ্চ স্থানে রয়েছে মালয়েশিয়া। মূল তালিকায় দেশটির অবস্থান ২০তম। এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ার পরে রয়েছে যথাক্রমে চীন, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনাম।

এদিকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত ৭১ (স্কোর- ৪ দশমিক ২), শ্রীলংকা ৭৩ (৪ দশমিক ২), নেপাল ১০২ (৩ দশমিক ৮), ভুটান ১০৩ (৩ দশমিক ৮), পাকিস্তান ১২৯ (৩ দশমিক ৪) ও মিয়ানমার ১৩৪তম (৩ দশমিক ২) স্থানে রয়েছে।

আফগানিস্তান তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

তেল সমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থান শীর্ষে। মূল তালিকায় দেশটি ১২তম স্থানে রয়েছে। এ অঞ্চলে আমিরাতের পরে রয়েছে যথাক্রমে কাতার, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমান। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন স্থানে রয়েছে ইয়েমেন। মূল তালিকায় দেশটির অবস্থান ১৪২।

প্রতিযোগিতা সক্ষমতার এ তালিকায় আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে মৌরিতানিয়া রয়েছে শীর্ষে। মূল তালিকায় দেশটির অবস্থান ৩০তম। এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যেও সবার নিচে রয়েছে গায়ানা।

বিভিন্ন দেশের সক্ষমতা, উৎপাদনশীলতা ও উন্নতি বিষয়ে সমন্বিত চিত্র তুলে ধরার লক্ষ্যে ডব্লিউইএফ ২০০৪ সাল থেকে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বৃহস্পতিবার ঢাকায় ডব্লিউইএফের প্রতিবেদনটি প্রকাশ করবে। একইসঙ্গে বাংলাদেশে ব্যবসার পরিবেশ নিয়েও একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে সিপিডি।