কর্মক্ষেত্রে চাপ ডায়াবেটিস ঝুঁকি বাড়ায় ৪৫%

0
81
stress
কর্মক্ষেত্রে চাপ

আজ ১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। বর্তমান দেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৯০ লাখ। আর বিশ্বে ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৪০ কোটি। যা ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। ৮০’র দশকে দেশে ডায়াবেটিসের প্রবণতা ছিল মাত্র ২ শতাংশের মতো। সেখানে আজ তা ঢাকা শহরে প্রায় ১০ শতাংশ ছুঁয়েছে। এবং প্রিডায়াবেটিসের (ডায়াবেটিস এর আগের ধাপ) হার আরও প্রায় ১০ শতাংশ। এই হার বাড়ার অন্যতম কারণ কর্মক্ষেত্রে বাড়তি চাপ।

বেশি ওজন না থাকলেও কর্মক্ষেত্রে বাড়তি চাপ ডায়াবেটিস ঝুঁকি ৪৫ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়। জার্মানির মিউনিখ এপিডেমোলোজি ইনস্টিটিউটের এক গবেষণাপত্রে এমন আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে।

work-stress
কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাজের চাপ

ওই গবেষণার বরাত দিয়ে ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ৩০ লাখ ব্রিটিশ ডায়াবেটিসে ভুগছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৫ সাল নাগাদ এই সংখ্যা ৪০ লাখ এবং ২০৩০ সালে ৫০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। এবং এদের ৯০ শতাংশই টাইপ-২ ডায়াবেটিসে ভুগবে।

গবেষকরা বলছেন- অতিরিক্ত ওজন না থাকলেও কর্মক্ষেত্রে স্ট্রেস টাইপ-২ ডায়াবেটিস ত্বরাণ্বিত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, কর্মক্ষেত্রের চাপ হৃদরোগ, স্ট্রোক, অন্ধত্ব এবং মানসিক অবসাদের ঝুঁকিকেও বাড়িয়ে তোলে।

অফিসের পুরো সময় কাজ করেন এমন ২৯ থেকে ৬৬ বছর বয়সী ৫৩৩৭ জন নারী-পুরুষের ওপর গবেষণাটি চালানো হয়। গবেষণায় বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই), পারিবারিক ইতিহাস ও কাজের চাপকে সূচক হিসেবে নিয়েছিলেন গবেষকরা।

গবেষণায় দেখা গেছে, বিএমআই ডায়াবেটিসের একটি কারণ হলেও কর্মক্ষেত্রে চাপ উচ্চ ডায়াবেটিস ঝুঁকির জন্য মারাত্মক ভূমিকা রাখে। বিএমআই ৩০ এর ওপর হলে তা ডায়েবেটিসের জন্য বিপদসীমা অতিক্রম করে।

গবেষক প্রফেসর কার্ল হেনিজ লডিগ বলেন, আমাদের তথ্যানুসারে কর্মক্ষেত্রে প্রতি ৫ জনে ১ জন উচ্চ চাপে থাকেন। কর্মক্ষেত্রে যারা সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী তাদের ক্ষেত্রে এই হার বেশি।

প্রফেসর লডিগ বলেন, এটা পরিষ্কার, কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাজ শরীরকে ক্লান্ত করার পাশাপাশি মানসিক চাপ বাড়াতে থাকে। স্ট্রেস গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়ায় তা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষতি করে।

তাদের গবেষণায় সবচেয়ে ভয়াবহ যে বিষয় উঠে এসেছে তা হলো- কাজের চাপে থাকা মানুষ নিজের অজান্তেই টাইপ-২ ডায়াবেটিসের দিকে এগিয়ে যায়। তাড়াতাড়ি ক্লান্তি, ঘন ঘন পিপাসা, ঘন ঘন মূত্রত্যাগ এবং ধীরগতিতে ক্ষত শুকানোর মতো ডায়াবেটিসের যেসব সাধারণ লক্ষণ আছে অনেক সময় তা তারা বুঝতে পারে না।

টাইপ-২ ডায়াবেটিস সাধারণত একটু বেশি বয়সেই হয়। কিন্তু গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, এটা এখন ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সীদেরও আক্রান্ত করছে। যুক্তরাজ্যের ডায়াবেটিস গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ডা. রানকিং বলেন, স্ট্রেসই এর মূল কারণ।

তিনি বলেন, টাইপ- ২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ওজন কমানো, সুষম খাবার গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি চাপকেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

ইউএম/