পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি পায়নি দুদক

0
98
padma-bridge
পদ্মা সেতুর নকশা
padma-bridge
পদ্মা সেতুর নকশা

আলোচিত পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংকের করা দুর্নীতির যড়যন্ত্রের অভিযোগের সত্যতা পায়নি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সেই সাথে যড়যন্ত্রের মামলায় সন্দেহভাজন দুই সাবেক মন্ত্রীসহ অন্য সাত আসামিকে নির্দোষ ঘোষণা করেছে দুদক।

বুধবার বিকালে রাজধানীর সেগুন বাগিচায় দুদকের করফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান। এসময় দুদক কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন চপ্পু উপস্থিত ছিলেন।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ২০১১ সালে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির খবর প্রকাশ পায়। বিশ্ব ব্যাংক একই অভিযোগ করে অর্থায়ন ফিরিয়ে নেয়। এরপর বিষয়টি অনুসন্ধান করে এর ঠিকাদারীতে কোনো দুর্নীতির প্রমাণ না পাওয়ায় ২০১২ সালে বিষয়টি নথিভুক্ত করার সুপারিশ করে দুদকের অনুসন্ধান দল।

পরবর্তীতে বিশ্ব ব্যাংক দুর্নীতির ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত কিছু তথ্য-উপাত্ত দিয়ে দুদককে সাহায্যের আশ্বাস দেওয়ায় ও সংবাদ-পত্রে এ সংক্রান্ত নতুন কিছু তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ পাওয়ায় অধিকতর তদন্তের জন্য মামলা করে দুদক।

তিনি বলেন,  এই প্রকল্পে ঠিকাদারী কানাডীয় প্রকৌশলী প্রতিষ্ঠান এসএনসি লাভালিনকে কালো তালিকাভুক্ত করাসহ একটি দুর্নীতির মামলা করে দেশটির পুলিশ। যা থেকে কিছু তথ্য উপাত্ত পাওয়ার আশা করেছিল দুদক। কিন্তু কানাডীয় আদালত থেকে দুর্নীতি প্রমাণ করার মতো নথিপত্র পায়নি দুদক।

এছাড়া  বিশ্ব ব্যাংকের তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে ও দুদকের নিজস্ব ক্ষমতায় দেড় বছরের অধিক সময় তদন্ত করে এই প্রকল্পে কোনো দুর্নীতি বা দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের প্রমাণ  না পাওয়ায় মামলাটি নথিভুক্ত করার সিদ্ধান্ত ন্নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের প্রাক্তন ভাইস-প্রেসিডেন্ট রমেশ শাহর ডায়েরিকে ঘিরেই পদ্মা সেতু বিষয়ে দুর্নীতি চেষ্টার অভিযোগ উত্থাপিত হয়। যেখানে ঘুষ দেওয়ার পার্সেন্টেস লেখা ছিল। তাই রমেশের ডায়েরির অনুলিপি ও বক্তব্য ছাড়াই মামলা নিস্পত্তির বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, রমেশের ডায়েরি বলতে কিছু নেই। একটি নোটে কিছু লেখা ছিলো যা আমাদের পক্ষে পাওয়া সম্ভব নয়।

তবে এ মামলার তদন্ত ও নিস্পত্তির জন্য যে তথ্য-উপাত্ত প্রয়োজন তা দুদক পেয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, কানাডার প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনকে পদ্মা সেতুর পরামর্শকের কাজ পাইয়ে দিতে ‘ঘুষ লেনদেনের ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগে ২০১২ সালের ১৭ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানী থানায় (মামলা নং ১৯) মোট সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। মামলায় আসামিরা হলেন- সেতু বিভাগের প্রাক্তন সচিব মোশাররফ হোসেইন ভূঁইয়া, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদৌস, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিয়াজ আহমেদ জাবের, ইপিসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফা, কানাডিয় প্রকৌশলী প্রতিষ্ঠান এসএনসি লাভালিনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়ালেস, আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের প্রাক্তন ভাইস-প্রেসিডেন্ট রমেশ শাহ এবং প্রাক্তন পরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইল। তবে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি না হলেও সৈয়দ আবুল হোসেন এবং আবুল হাসান চৌধুরীকে সন্দেহভাজনের তালিকায় রাখা হয়েছিল।

মামলা তদন্তের বিষয়ে জানা যায়, মামলায় অভিযুক্ত সব আসামিকেই একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। তবে কানাডার আদালত থেকে কিছু তথ্য পাওয়ার পর অনেকটা নিরবেই প্রাক্তন দুই মন্ত্রী হাসান-হোসেনের জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন করা হয়। গত ১২ জুলাই আবুল হাসান চৌধুরীকে এবং পরদিন ১৩ জুলাই সৈয়দ আবুল হোসেনকে দুদকের বাইরে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে সৈয়দ আবুল হোসেন ছয় পৃষ্ঠার একটি লিখিত বক্তব্য দেন। তাতে তিনি আবারও পদ্মা সেতু প্রকল্পে ন্যূনতম দুর্নীতি বা দুর্নীতির ষড়যন্ত্র হয়নি দাবি করেন। তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন।

এ ছাড়াও ঢাকায় পদ্মা সেতুর পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির ঘটনায় এ পর্যন্ত যত জনের নাম এসেছে, তাদের সবার বক্তব্য আবার নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নেওয়া হয়েছে বিশেষজ্ঞ কমিটির বক্তব্য।

প্রসঙ্গত, বিশ্বব্যাংকের নেতৃত্বে ২ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ২০,৫০৭ কোটি টাকা) ব্যয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।  বিশ্বব্যাংক এ প্রকল্পে ১২০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ সহায়তা অনুমোদন করে। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ২০১১ সালে অর্থায়ন করতে অস্বীকৃতি জানায় প্র্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে নিজস্ব অর্থায়নে চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানি এ সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করেছে।

এইউ নয়ন