শিল্প উদ্যোক্তাদের আমদানি নির্ভরতা কমানোর আহ্বান মন্ত্রীর

0
70
cirdap
gs
cirdap
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প (বিসিক) আয়োজিত ‘সাব-কন্ট্রাক্টিং সংযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন বক্তারা। ছবিটি বুধবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তন থেকে তুলেছেন আলোকচিত্রী খালেদুল কবির নয়ন।

দেশের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে আনতে ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তাদেরকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

দেশের ক্ষুদ্র শিল্প এগিয়ে এলে অন্য দেশের মতো বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন তিনি।

বুধবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প (বিসিক) আয়োজিত ‘সাব-কন্ট্রাক্টিং সংযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এই কথা বলেন।

বিসিক সভাপতি শিল্পসচিব মঈন উদ্দিন আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান হোসেন মুনসুর, শ্যামসুন্দর শিকদার, অতিরিক্ত রেল সচিব কমল কৃষ্ণ ভট্টাচার্য্য ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তারা।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিসিকের প্রযুক্তি পরিচালক আবু তাহের খান।

শিল্প মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের যে সব দেশে শিল্প বিপ্লব হয়েছে তারা মূলত আগে থেকে ক্ষুদ্র শিল্পকে প্রাধান্য দিয়েছিল। আমরাও দেশের ক্ষুদ্র শিল্পকে এগিয়ে নিতে চাই। আর এটা সম্মিলিত প্রচেষ্ঠার মাধ্যমে সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশের সমুদ্রের সম্পদ ব্যবহার করার অবারিত সুযোগ রয়েছে। এই সম্পদকে যদি সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করা যায় তবে বাংলাদেশ উন্নত দেশে রপান্তরিত হবে।

সেমিনারে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, বাংলাদেশে তৈরি হওয়া ক্ষুদ্র শিল্পের যন্ত্রাংশ বেশিরভাগই রেল বিভাগ ব্যবহার করে থাকে। ১৯৮৬ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়ে ২৪৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকার রেল যন্ত্রাংশ ব্যবহার করেছে রেল বিভাগ যা মোট উৎপাদনের প্রায় ৪৭ শতাংশ।

তিনি আরও বলেন, অনুমোদিত ৬৪২টি যন্ত্রাংশের ব্যবহার রেল বিভাগ করছে। আরও ৩০টি পণ্যের গুণগতমান নিয়ে যাচাই বাচাই করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের এই সাব-কন্ট্রাক্টিং শিল্পের উন্নতি করতে হলে উদ্যোক্তাদের মনোভাবের পরিবর্তন আনতে হবে। এটা করতে পারলে বিদেশ থেকে হেলিকাপ্টরও আমদানি করতে হবে না। রাজধানীর ধোলাই খাল থেকেও হেলিকপ্টার তৈরি করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

তবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে সরকারিভাবে সহায়তা না করলে এটা করা সম্ভব নয়।দেশের পোশাক শিল্পে যদি সাব-কন্ট্রাক্টিং না থাকতো তবে রপ্তানি ২৫ থেকে ৩০ বিলিয়ন করা সম্ভব হতো না বলে মনে করেন তিনি।

সেমিনারের সাব-কন্ট্রাক্টিং উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে ১৯৮৯ সালের সাব-কন্ট্রাক্টিং গেজেট বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রীর কাছে দাবি জানানো হয়। রপ্তানিতে ক্ষুদ্র যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ, নির্মাণ সামগ্রী, কৃষি সামগ্রী, বাইসাইকেল ও স্টিলের আসবাবপত্র তৈরিতে সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

বিসিকের ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো ১৯৮৬ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সমঝোতা স্বাক্ষরের আওতায় বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ৫০৫ কোটি টাকার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সরবরাহ করেছে। আর ২০১৩-১৪ অর্থবছরে হালকা প্রকৌশল পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৩৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলারে।

এস রহমান/