ইসলামী বিনিয়োগ বন্ড চালু

0
157
islamic-bond
ইসলামী বন্ড-প্রতীকি ছবি
islamic-bond
ইসলামী বন্ড-প্রতীকি ছবি

চালু করা হলো ইসলামী বিনিয়োগ বন্ড (ইসলামী বন্ড)। এর ফলে ইসলামী ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিতে পারবে সরকার। সরকারের ট্রেজারি বিল ও বন্ড সুদভিত্তিক হওয়ায় এতদিন ইসলামী ব্যাংকগুলো সরকারের ঋণের আওতামুক্ত ছিল।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ‘বাংলাদেশ সরকার ইসলামী বিনিয়োগ বন্ড (ইসলামী বন্ড) নীতিমালা-২০০৪ (সংশোধিত-২০১৪)’ জারি করেছে। এর আগে ১৮ আগস্ট ইসলামী বিনিয়োগ বন্ড বিল অনুমোদন করে অর্থমন্ত্রণালয়।

 নীতিমালায় বলা হয়েছে, ইসলামী ব্যাংকগুলো একটি প্রকল্পের মাধ্যমে মুনাফাভিত্তিক ইসলামী বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারবে। এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলো সংবিধিবদ্ধ তারল্যের হার (এসএলআর) প্রদান করতে পারবে। সব ধরনের ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মালিক সরকার, তাই এ বন্ডের মাধ্যমে সরকার ঋণও নিতে পারবে। একই সঙ্গে কোনো ব্যাংকে নগদ টাকার সমস্যা হলে সঙ্কট মেটাতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বন্ড বন্ধক রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত ইসলামী তহবিল থেকে ধার নিতে (রেপো) পারবে।

 বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়ায় ইসলামী ব্যাংকিং পদ্ধতি থেকে সরকার ঋণ নিতে পারে না। সরকার তার বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংকিং খাত থেকে যে পরিমাণ ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে তা শুধু প্রচলিত ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা হয়। এতে সময়ে সময়ে তহবিল সঙ্কটে পড়ে প্রচলিত ব্যাংকগুলো। সঙ্কট মেটাতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রচলিত ব্যাংকগুলোকে বিশেষ তারল্য সহায়তার আওতায় ধার দিয়ে থাকে। অনেক সময় সরকারের ঋণের জোগান দিতে গিয়ে প্রচলিত ব্যাংকগুলো সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঋণ দিতে অপারগ হয়। সরকারের কম সুদে ঋণের জোগান দেয়া হয়। এটা সমন্বয় করতে শিল্পঋণসহ বিভিন্ন প্রকার ঋণের সুদের হার বেড়ে যায়। নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ায় ঋণ গ্রহণে প্রচলিত ব্যাংকের ওপর সরকারের চাপ কমবে।

এ দিকে বিদ্যমান ইসলামী বিনিয়োগ বন্ড বাজারে থাকলেও তা নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে ব্যাংকগুলোর কাছে আকর্ষণীয় হয়নি। দীর্ঘ মেয়াদ, বিনিয়োগের মুনাফা তুলনামূলক কম হওয়ায় ইসলামী ব্যাংকগুলো এ বন্ডে তুলনামূলক কম বিনিয়োগ করে থাকে।

 সূত্র জানিয়েছে, ইসলামী বিনিয়োগ বন্ডের মাধ্যমে সরকার ঋণ নেয়ার লক্ষ্যে ইসলামী বিনিয়োগ বন্ডকে আরো আকর্ষণীয় করার উদ্যোগ নেয়া হয়। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী বন্ডের নীতিমালা সংশোধন করেছে।

 নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, বন্ডের সংশোধিত নীতিমালায় প্রচলিত বন্ডের মতো মুনাফা ভাগাভাগির ভিত্তিতে ইসলামী বন্ডের উন্মুক্ত নিলামের আয়োজন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর নিলামের নীতিমালা সময়ে সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিবর্তন করতে পারবে। একইসঙ্গে সরকার বিশেষ উদ্দেশ্যে শরিয়া অনুমোদিত সুনির্দিষ্ট খাত বা সম্পদ ভিত্তিতে বিভিন্ন মেয়াদি ইসলামী বন্ড ইস্যু করতে পারবে। ইসলামী ব্যাংকগুলো  অর্থ সঙ্কটে পড়লে ইসলামী বন্ড বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বন্ধক রেখে অথবা অন্য কোনো ইসলামী ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে বন্ধক রেখে ঋণ নিতে পারবে।

 উল্লেখ্য্, দেশে ব্যাংকিং খাতের মোট সম্পদের মধ্যে ২১ শতাংশ রয়েছে ইসলামী ব্যাংকগুলোর। ইসলামী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পর্যাপ্ত তারল্য থাকা সত্ত্বেও পৃথক মুদ্রাবাজার না থাকায় ইসলামী ব্যাংকিং খাতের বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। প্রচলিত ব্যাংকগুলোর মতো ইসলামী ব্যাংক আন্তঃব্যাংক লেনদেন করতে পারলে ব্যাংকগুলোর তহবিল সঙ্কট কেটে যাবে।

এসএই/