৫ সচিবের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিলে দুদকের সুপারিশ

0
65
মুক্তিযোদ্ধা সনদ
মুক্তিযুদ্ধের চিহ্নসহ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের লোগে
মুক্তিযুদ্ধের চিহ্নসহ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের লোগে
মুক্তিযুদ্ধের চিহ্নসহ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের লোগে

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদপত্র দেখিয়ে পদোন্নোতিও সুবিধা নেওয়ায় পাঁচ সচিবের সনদ ও গেজেট বাতিলের সুপারিশ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সেই সাথে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।

৬ সচিবের বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ নেওয়ার অভিযোগ অনুসন্ধান শেষে বর্তমান ৫ জন সচিবের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা। দুদক সূত্র অর্থসূচককে এ কথা নিশ্চিত করেছে।

যাদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও গেজেট বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে তারা হলেন,বিনিয়োগবোর্ডে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের (ওএসডি) সচিব কেএইচ মাসুদ সিদ্দিকী, একই মন্ত্রণালয় থেকে ওএসডি হওয়া যুগ্ম-সচিব আবুল কাসেম তালুকদার, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সচিব একেএম আমির হোসেন এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব নিয়াজউদ্দিন মিঞা।

অভিযুক্তদের মধ্যে চার জনের চাকরির মেয়াদই শেষ পর্যায়ে। পূর্ণাঙ্গ সচিব মর্যাদায় মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান চাকরি করছেন চুক্তিভিত্তিক। একেএম আমির হোসেন এবং নিয়াজ উদ্দিন মিঞা চাকরি করছেন পূর্ণাঙ্গ সচিব হিসেবে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব থাকাকালে কেএইচ মাসুদ সিদ্দিকীকে গত মাসে ওএসডি করা হয়। যুগ্ম-সচিব আবুল কাসেম তালুকদারকে ওএসডি করা হয় গত জুলাইয়ে।

আর অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. খোন্দকার শওকত হোসেনকে।

খোন্দকার শওকত হোসেন চাকরিতে যোগদানকালে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা না দিলেও ১৯৭১ সালে টাঙ্গাইল মির্জাপুর কদিমধল্লা কাটরা, মাটিয়াচড়া ও ডোলা এলাকায় যুদ্ধ করেছেন-মর্মে প্রমাণ পেয়েছে দুদক।

সূত্র জানায়, অনুসন্ধানে ৫ সচিব ও এক যুগ্ম-সচিবের ডোসিয়ার, পিডিএস (পার্সোনাল ডাটাশিট), মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাখিলকৃত সনদ, চাকরিতে যোগদানকালে পূরণকৃত ফরমের সত্যায়িত অনুলিপিসহ ৪১৮ পৃষ্ঠার নথি যাচাই করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় অভিযুক্তদের। স্থানীয় কমান্ড কাউন্সিল প্রধান হিসেবে যারা তাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সার্টিফাই করেছেন তাদেরও সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।

প্রায় ৬ মাস অনুসন্ধানের পর দুদক নিশ্চিত হয় পাঁচ আমলার কেউ মুক্তিযুদ্ধে কোনোভাবে অংশ নেননি।

দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধে অংশগ্রহণের অকাট্য কোনো দলিলও অনুসন্ধানকালে তারা দেখাতে পারেননি। তাই দাবি করলেও তারা আদৌ মুক্তিযোদ্ধা নন। তারা যে কাগজপত্রের বলে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাবি করেছেন সেগুলোর কোনো সত্যতা মেলেনি। যে চারটি ক্যাটাগরির ভিত্তিতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা শনাক্ত করা হয় সেগুলোর আওতায় তা পড়ে না। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে তাদের বয়সও ছিল কম।

তাই দুদকের পক্ষ থেকে এই ৫ আমলার মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল, সংগৃহীত সনদ বাতিল, অসদাচরণের দায়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও মিথ্যা তথ্য প্রদান করায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। একইসাথে অভিযুক্তরা সংগৃহীত সনদ ব্যবহার করে আর্থিক সুবিধাদি গ্রহণ না করায় দুর্নীতি দমন কমিশন মামলা করতে পারে না- এই মর্মে মন্তব্য করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে অফ দ্য রেকর্ডে অনুসন্ধাকারী কর্মকর্তা অর্থসূচককে জানান, সকল নথিপত্র ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রমাণিত হয় অভিযুক্ত পাঁচ সচিব মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেননি। তারা ২০১৩ সালে তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর প্রিয়ভাজন হওয়ার সুবিধা ভোগ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিয়েও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সাময়িক সনদ গ্রহণ করায় মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের গেজেট থেকে তাদের নাম এবং সনদ বাতিলের সুপারিশ করেছি।