‘আসছে হৃদরোগের নতুন ওষুধ’

0
45
heart attack
হৃদপিণ্ড।
হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ আবিষ্কারের দাবি করেছেন এক দল গবেষক। তারা বলছেন, বর্তমানে যেসব ওষুধ ব্যবহৃত হচ্ছে তার চেয়ে নতুন ওষুধটি অনেক বেশি কার্যকর হবে। এটি মৃত্যুর হার এক পঞ্চমাংশ কমাবে। আগামী বছরই ওষুধটি বাজারে আসতে পারে।

heart attack
হৃদপিণ্ড।

তারা জানান, এলসিজেড৬৯৬ নামের এই ওষুধের পরীক্ষামূলক ব্যবহারে হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে ভালো ফলাফল পাওয়া গেছে।

গবেষকদের বরাত দিয়ে ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৮ হাজারের বেশি রোগীকে চিহ্নিতের পর তাদেরকে দুটি দলে ভাগ করে এলসিজেড৬৯৬ ও এসিই ইনহিবিটর এনালাপ্রিল সেবন করতে দেওয়া হয়েছে। চিকিংসার ফলাফলে দেখা গেছে, এসিই ইনহিবিটর এনালাপ্রিলের চেয়ে এলসিজেড৬৯৬ সেবনকারী রোগীদের মৃত্যুর হার কম।

এই গবেষণার প্রধান এবং গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর জন ম্যাক মারি বলেন, হৃদরোগ কমাতে এই ওষুধ যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

এই পরীক্ষার জন্য চিহ্নিত রোগীদের এক অংশের প্রত্যেককে দিনে ২ বার ২০০ গ্রাম এলসিজেড৬৯৬ দেওয়া হয়েছিল। অপর অংশের প্রত্যেককে একই নিয়মে এনালাপ্রিল সেবন করতে দেওয়া হয়েছিল।

নিউ ইংল্যান্ড জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এলসিজেড৬৯৬ সেবন করা রোগীর মধ্যে কার্ডিওভাসকুলারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯১৪ জনের; যা এই ওষুধ সেবনকারীর মাত্র ২১ দশমিক ৮ শতাংশ। কিন্তু এনালাপ্রিল সেবনকারী ১ হাজার ১১৭ জনের অর্থাৎ ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

অন্যান্য রোগে আক্রান্তদের মধ্যে এলসিজেড৬৯৬ ও এনালাপ্রিল সেবনে মৃত্যুর সংখ্যা যথাক্রমে ৭১১ জন এবং ৮৩৫ জন। এক্ষেত্রে মৃত্যুর ক্ষেত্রে এনালাপ্রিল সেবনকারীরা এগিয়ে রয়েছে। এবং সুফল পেয়েছে এলসিজেড৬৯৬ সেবনকারী রোগীরা।

প্রতিবছর হৃদরোগে আক্রান্ত প্রায় ৯ লাখ ব্রিটিশ নাগরিকের মধ্যে মাত্র ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ বেঁচে থাকেন। অর্থাৎ প্রতিবছর শুধুমাত্র ব্রিটেনে ৬ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

হৃদরোগের কারণে শারিরীক ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, হৃদস্পন্দনের উত্থান-পতন এবং গোড়ালি ফোলাসহ নানা রোগ শরীরে গুরুতর জটিলতা তৈরি করে।

যদি হৃদযন্ত্র শরীরের রক্তচাপ সহ্য করতে না পারে তবে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। হরমোনের উৎপাদন ব্যাহত হলে শরীরে রক্তপ্রবাহ কমে যায়। আবার রক্তকে সংকুচিত করে হরমোন। এতে রক্তে জমাট বাঁধে। ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব কার্ডিওলজি ইন বার্সালোনার একটি মিটিংয়ে প্রফেসর ম্যাক মারি বলেন, এলসিজেড৬৯৬ নামের এই ওষুধটি শরীরে ১ দিনে ২ ধরনের প্রভাব সৃষ্টি করে। এটি অকার্যকর হরমোনগুলোকে হত্যা করবে এবং কার্যকর হরমোনের উৎপাদন বৃদ্ধি করবে।

এই ওষুধটি প্রস্রাব উৎপাদনেও ভূমিকা রাখবে। সোডিয়াম এবং পানি নিঃসারণ করে রক্ত চলাচলে স্বাভাবিক গতি বজায় রাখবে এটি; ভালো থাকবে কিডনিও। ফলে হৃদরোগের হার কমবে।

অপর গবেষক এবং টেক্সাস সাউথ-ওয়েস্টার্ন মেডিকেল সেন্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মিল্টন প্যাকার বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, এই ওষুধটি হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। চিকিৎসাগত দিক থেকেও এর আবিষ্কার জরুরি ছিল।

এমই/