নারী-পুরুষের ফেসবুক চ্যাটিং নাজায়েজ!

0
68
teen-with-laptop-1
ফেসবুক চ্যাটিংয়ে মগ্ন এক তরুণী
online chatting
ফাইল ছবি

ফেসবুকসহ সব ধরণের অনলাইন মাধ্যমে  নারী -পুরুষের চ্যাটিংকে নাজায়েজ বলে ফতোয়া দিয়েছে মিশরের একটি সংস্থা। দার আল ইফতা নামের সংস্থাটি বলেছে, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের আলাপের কোনো সুযোগ নেই। সরকারি এ সংস্থা মিশরে ধর্মীয় রীতিনীতি পর্যালোচনা ও প্রয়োজনে দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকে। এ ফতোয়ার কারণে মিশরে অপরিচিত তরুণ-তরুণী ও নারী-পুরুষের অনলাইন চ্যাটিং কার্যত নিষিদ্ধ হয়ে গেল। খবর গালফ নিউজ, নিউজ উইক ও আল অ্যারাবিয়ার।

দার আল ইফতা এর বরাত দিয়ে সংবাদপত্রগুলো জানিয়েছে, অনলাইন চ্যাট সম্পর্কে মুসলিমদের মনে সন্দেহ তৈরির পরিপ্রেক্ষিতে এ ফতোয়া দেওয়া হয়েছে।

সংস্থাটির মতে, অনলাইন চ্যাট শয়তানের হাতিয়ার। এটি বিভেদ ও দুর্নীতির বিস্তারে সহায়তা করে।

দার আল ইফতা অনলাইন চ্যাটের পাশাপাশি সেলফির ব্যাপারেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বিশেষ করে কিশোরী ও তরুণীদের সতর্ক করে দিয়েছে। এ বিষয়ে সংস্থাটি বলেছে, নিজেকে রক্ষা এবং সম্মান সমুন্নত রাখার স্বার্থে মেয়েদের উচিত অপরিচিত পুরষের কাছে ছবি না পাঠানো। কারণ এসব ছবির অপব্যাবহার হতে পারে। বিদেশীদের কাছে মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হতে পারে।

সংস্থার মতে, এ ধরনের চ্যাটিং অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলায় প্রলুব্ধ করতে পারে। বিপথগামী হতে পারে তরুণ-তরুণীরা।

teen-with-laptop-1
ফেসবুক চ্যাটিংয়ে মগ্ন এক তরুণী

গত শুক্রবার এ ফতোয়া প্রকাশের পর মিশরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ধর্মগুরু আবদুল হামিদ আল আত্তারাস এ ফতোয়াকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন।

তবে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলাম ধর্মতত্ত্ব এবং দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আমনাহ নুসাইর এ ফতোয়াকে ‘অবাস্তব’ বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যমগুলো আমাদের জীবনের অংশে পরিণত হয়েছে। চ্যাটের বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে তা ধর্মীয়ভাবে বৈধ-অবৈধ নির্ধারিত হতে পারে।

আহমেদ আল সায়াদ নামের এক যুবক তার টুইটার অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, চ্যাট অনৈসলামিক? দার আল আল ইফতা এদেশে সবকিছুই নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে, আর এবার নজর দিয়েছে অনলাইনে চ্যাটে।

প্রসঙ্গত, মিশরে বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ অনলাইন ইউজার রয়েছে। এর মধ্য ফেসবুক ব্যবহার করেন ১ কোটি ৮০ লাখের মতো মানুষ। দেশটিতে দিন দিন টুইটারের জনপ্রিয়তাও বাড়ছে।

এর আগে দেশটির সালাফিপন্থী এক ওলামা ফতোয়া দিয়েছিলেন, উদ্দেশ্য ‘ভালো’ থাকলে কোনো তরুণীর গোসল করা দেখলে দোষ নেই। এতে কোনো পাপ হবে না।

এ ফতোয়াকে ঘিরে দেশটিতে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়। খোদ ধর্মমন্ত্রী ওই ফতোয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা চান। এর প্রেক্ষিতে উসামা আল কোয়াইসি নামের ওই ওলামা ফতোয়াটি প্রত্যাহার করে নেন।

পড়ুন আগের রিপোর্টটিঃ

girl-bath
সমুদ্র স্নান

গোপনে মেয়েদের গোসল দেখা জায়েজ!

উদ্দেশ্য ‘ভালো’ থাকলে কোনো তরুণীর গোসল করা দেখলে দোষ নেই। এতে কোনো পাপ হবে না। এমনই এক আজব ফতোয়া দিয়েছেন মিশরের এক আলেম।