গর্ভাবস্থায় বিষণ্নতার ওষুধ বাচ্চার জন্য ক্ষতিকর

0
39
adhd symptoms
বিষণ্ণতায় ভোগা মা

‘অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাক্টিভিটি ডিসঅর্ডার’ (এডিএইচডি) অসুখ শিশুদের মধ্যে অন্যমনস্কতা, অতিরিক্ত চঞ্চলতা বা অতি আবেগের সমস্যা দেখা দেয়৷ এতে শিশুরা অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অনিদ্রা, পড়াশোনায় অমনোযোগিতা ইত্যাদি সমস্যায় ভোগে। ‘মনোযোগের অভাব এবং অতি-সক্রিয়তা’ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় বহুগুণ।

অনেকক্ষেত্রে অন্যান্য আচরণগত সমস্যা, যেমন অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যায়৷ এমনকি কখনো সখনো এডিএইচডি-র ফলে তাদের শারীরিক বিকাশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গর্ভাবস্থায় সমানসিক রোগের ওষুধ সেবন বাচ্চার এডিএইচডি হওয়ার পেছনে বহুলাংশে দায়ী।

বোস্টন গ্লোবের এক প্রতিবেদন বলছে, অতীতে এডিএইচডি-র সঙ্গে মূলত জিনগত সম্পর্কের কথা বলা হলেও, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের ‘মলিকিউলার সাইকিয়াট্রি’ বিভাগের অধ্যাপক রয় পেরলিস-এর গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

গর্ভাবস্থায় বিষণ্নতানতুন কিছু নয়। হরমোনগত পরিবর্তনের সঙ্গে গর্ভাবস্থায় মানসিক রোগ বা ‘ডিপ্রেশন’ দেখা দিতেই পারে। এমনকি সন্তান জন্মের পর গর্ভোত্তর বিষণ্নতাও দেখা যায় কোনো কোনো মায়ের মধ্যে। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে অনেক মা-ই শক্তিশালী ‘অ্যান্টি ডিপ্রেসান্ট’-এর দ্বারস্থ হন৷ আর সেখানেই দেখা দেয় সমস্যা।

গর্ভকালীন সময়ে আপনি যদি নিয়মিত এ ধরনের ওষুধ খান, তাহলে আপনার শিশুর এডিএইচডি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

চিন্তার বিষয় এটাই যে, গর্ভধারণের পর কোনো মা যদি ‘অ্যান্টি ডিপ্রেসান্ট’ জাতীয় ওষুধ হঠাৎ করে বন্ধ করে দেন, তাহলে এ সমস্যা আরও বাড়তে পারে। তবে সাধারণ, নিত্য-নৈমিত্তিক মন খারাপের ক্ষেত্রে ‘অ্যান্টি ডিপ্রেসান্ট’-এর প্রয়োজন হয় না৷ এ রকম ওষুধের প্রয়োজন হয় ‘ক্রনিক ডিপ্রেশন’-এর ক্ষেত্রে।

মুশকিল হচ্ছে, মনের অসুখ, মন খারাপ বা গর্ভকালীন বিষণ্নতা কখন যে মানসিক রোগের আকার ধারণ করে – সেটা বোঝাই সবচেয়ে কঠিন। তাই গর্ভাবস্থায় মায়ের মধ্যে মানসিক অসুখের কোনোরকম লক্ষণ শনাক্ত করা গেলে, অবিলম্বে বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

ইউএম/