দুদকে যাননি পারটেক্স চেয়ারম্যান, সময় চাইলেন

0
39
DuDok
দুদক লোগো এবং পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এম.এ. হাশেম।
DuDok
দুদক লোগো এবং পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এম.এ. হাশেম।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যালয়ে হাজির হননি পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এম.এ. হাশেমসহ তার দুই ছেলে শওকত আজিজ ও রুবেল আজিজ। গ্রুপের চেয়ারম্যান হাশের দেশের বাইরে থাকার কারণে তারা দুদকের কাছে সময়ের আবেদন করেছেন।

দুদকের উপ পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশের বাইরে অবস্থান করার কারণে এম.এ হাশেম ও তার দুই ছেলে আকে চিঠিতে সময় বাড়ানোর আবেদন করেছেন।

দুদক চিঠি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, সুগার মিলসের নামে সোনালী ব্যাংকের ১৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মঙ্গলবার দুদকের সেগুনবাগিচা কার্যালয়ে এম.এ. হাশেমসহ তার দুই ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা ছিলো।

দুদক সূত্র জানায়, বিদেশ থেকে অপরিশোধিত চিনি আমদানির নামে ২০১১ সালে ৭ কোটি ৪২ লাখ টাকার এফডিআরের বিপরীতে সোনালী ব্যাংকের বঙ্গবন্ধু এভিনিউ শাখায় ১৫০ কোটি টাকার দুটি এলসি খুলে পারটেক্স সুগার মিলস লিমিটেড। ওই এলসির বিপরীতে ৩০ হাজার টন অপরিশোধিত চিনি আমদানি করলেও তা বিক্রি করে কোনো টাকা ব্যাংকে জমা করা হয়নি। এতে পেমেন্ট এগেইনস্ট ডকুমেন্ট (পিএডি) শ্রেণিভুক্ত করে এফডিআর সমন্বয়ের পরও পারটেক্স সুগার মিলসের কাছে সোনালী ব্যাংকের পাওনা দাঁড়ায় ১৩৬ কোটি টাকা।

সূত্র আরও জানায়, সোনালী ব্যাংকের একটি সিন্ডিকেট মোটা অঙ্কের উৎকোচ নিয়ে মাত্র ৭ কোটি ৪২ লাখ এফডিআরের বিপরীতে পারটেক্স গ্রুপকে ১৫০ কোটি টাকার এলসি খোলার সুযোগ দেয়। আগেই পারটেক্স গ্রুপের ২২ কোটি টাকা অনিয়মিত দায় ছিল। কিন্তু ঋণ অনাদায়ী অবস্থায় নতুন কোনো এলসি খোলা নিয়মবহির্ভূত।

হলমার্ক গ্রুপের ৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির ঘটনা তদন্তকালে ব্যাংকটির বেশ কয়েকটি শাখায় আরও প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ অনিয়মের প্রমাণ পায় দুদক। এর মধ্যে ব্যাংকটির বঙ্গবন্ধু এভিনিউ শাখা থেকে ১৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মেলে পারটেক্স সুগার মিলের বিরুদ্ধে।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সোনালী ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে গত বছর চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা বেরিয়ে এলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কমিশনে চিঠি পাঠায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রসঙ্গত, সোনালী ব্যাংক বঙ্গবন্ধু এভিনিউ শাখার সাবেক ডিজিএম অতি উৎসাহী হয়ে পারটেক্স সুগার মিলসের নামে এসব এলসি খুলেন। এলসি খোলার ক্ষেত্রে তাকে সহযোগিতা করেছেন ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হুমায়ুন কবির। হলমার্ক গ্রুপের আড়াই হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলার অন্যতম আসামি তিনি।