বাংলাদেশে বাতিল জাহাজ পাঠাবে না হাপাগ-লয়েড

0
31
bangladesh_shipbreaking_industry
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙ্গা শিল্প (ফাইল ছবি)

বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজ কোম্পানিগুলোর একটি হাপাগ-লয়েড সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে এখন থেকে তারা আর পুরোনো জাহাজ ভেঙ্গে ফেলার জন্য বাংলাদেশে পাঠাবে না।

বাংলাদেশের জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পে যেরকম বিপদজনক পরিবেশে কাজ হয় তা বিবেচনায় নিয়ে হাপাগ-লয়েড এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিবিসি জানতে পেরেছে। পরিবর্তে এখন থেকে পুরোনো এবং বাতিল জাহাজ পাঠানো হবে চীনে, যেখানে জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পে অনেক আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয় এবং কায়িক শ্রম দিয়ে কাজটি করা হয় না।

পুরোনো বা বাতিল জাহাজ বাংলাদেশে পাঠানো হবে নাকি চীনে—এ নিয়ে জার্মানীতে হাপাগ-লয়েডের বোর্ড সভায় বিতর্ক হয়। বাংলাদেশের তুলনায় চীনে জাহাজ ভাঙ্গার খরচ বেশি, যদিও সেখানে অনেক আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের নিরাপত্তার কথা ভেবে কোম্পানির বোর্ড চীনকে এই কাজের জন্য বেছে নেয়। এখন থেকে হাপাগ-লয়েডের বাতিল জাহাজ যাবে চীনের ইয়াংজি নদীর মুখে একটি শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে।

উল্লেখ্য পুরোনো বা বাতিল জাহাজ কিভাবে ভাঙ্গা হবে তা নিয়ে গত কবছর ধরেই এই শিল্পে নানা বিতর্ক চলছে। জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পের অন্যতম বড় কেন্দ্র বাংলাদেশের চট্টগ্রামে সাগর তীরে যেভাবে খালি হাতে বিপদজনক ভাবে জাহাজ ভাঙ্গা হয়, তা নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে।

বাংলাদেশের জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পে নিরাপদ কর্মপরিবেশের জন্য আন্দোলন করছে এমন একটি সংগঠন ‘ইয়াং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন’ বলছে, চ্ট্রগ্রামে গড়ে প্রতি মাসে অন্তত দুজন শ্রমিক জাহাজ ভাঙ্গার কাজ করতে গিয়ে মারা যায়।

হাপাগ-লয়েডের এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামে হাজার হাজার মানুষ এই শিল্পে কাজ করে। বাংলাদেশের স্টিল রি রোলিং মিলগুলো জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। ভাঙ্গা জাহাজের ইস্পাত এসব মিলে রিসাইক্লিং করে রড এবং অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী তৈরি করা হয়। সূত্র: বিবিসি বাংলা