সুদ হারের ব্যবধান সামান্য কমেছে

0
73
taka
টাকা
taka
টাকা

অনেক দিন পর ব্যাংক আমানত ও ঋণের সুদ হারের গড় ব্যবধান (স্প্রেড) কিছুটা কমেছে। গত জুলাই মাস শেষে ব্যাংকগুলোর গড় স্প্রেড ৫ দশমিক ১৩ শতাংশে নেমে আসে। এক মাস আগেও যা ছিল ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, বছরের শুরুতে অর্থাৎ জানুয়ারি মাসে ব্যাংকগুলোর গড় স্প্রেড সীমা ৫ শতাংশের নিচে ছিল। কিন্তু এর পর থেকেই বাড়তে শুরু করে এর ব্যবধান। ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংকগুলোর স্প্রেডের গড় ব্যবধান ছিলো ৫ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। মার্চ মাসে ৫ দশমিক ১৫ শতাংশ, এপ্রিলে ৫ দশমিক ১৪ শতাংশ, মে মাসে ৫ দশমিক ২২ শতাংশ এবং জুনে এটি হয় ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ; যা সাম্প্রতিক সময়ে সর্বোচ্চ।

প্রতিবেদন থেকে দেখা গেছে, জুলাই শেষে দেশের তফসিলভুক্ত ৫৬টি ব্যাংকের মধ্যে ২৯টি ব্যাংকের স্প্রেড ৫ শতাংশের ওপরে রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্প্রেড ব্র্যাক ব্যাংকের। ব্যাংকটির স্প্রেড রয়েছে ১০ দশমিক ৩২ শতাংশ। এছাড়া বিদেশি ৯টি ব্যাংকের মধ্যে ৭টি, দেশীয় বাণিজ্যিক ৩৯টি ব্যাংকের মধ্যে ২১টি এবং বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের স্প্রেড রয়েছে ৫ শতাংশের ওপরে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্প্রেড কমানোর ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদাসিনতা রয়েছে। নির্দেশনা দিয়েও নজরদারি না থাকায় এবং শাস্তির ব্যবস্থা না করায় দিন দিন স্প্রেড বাড়ছে বলে মনে করেন তারা। দেশে বিনিয়োগের সঠিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ব্যাংক সুদহার কমিয়ে আনতে হবে বলে জানান এসব বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমানতের সুদের তুলনায় ঋণে ৫ শতাংশের বেশি সুদ নেওয়া ২৯টি ব্যাংক হলো বিশেষায়িত খাতের বেসিক ব্যাংক, বেসরকারি খাতের এবি ব্যাংক, দি সিটি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, স্যোসাল ইসলামী ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, যমুনা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক ও ফারমার্স ব্যাংক।

বিদেশি মালিকানার স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, হাবিব ব্যাংক, সিটি ব্যাংক এনএ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, ওরি ব্যাংক, এইচএসবিসি ব্যাংক ও ব্যাংক আলফালাহ লিমিটেড।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, শুধু নির্দেশনা দিয়ে বসে থাকলে চলবে না। যেসব ব্যাংক নির্দেশনা মানবে না তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তির ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে হবে। তাহলেই নির্দেশনা পরিপালনে বাধ্য হবে ব্যাংকগুলো।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১২ সালের ২৭ জানুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারি করে ২০১৩ সালের মার্চের মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে স্প্রেড ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার নির্দেশ দেয়। নির্দেশনায় বলা হয়, যেসব ব্যাংকের স্প্রেড পাঁচ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে পারবে না তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু গত বছরের মার্চ পেরিয়ে ২০১৪ সালের মার্চসহ আরও চার মাস চলে গেলেও তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। বরং এ সময়ের মধ্যে মাঝে মাঝে স্প্রেড ওঠা নামা করেছে। আর চলতি বছরের শুরু থেকে এর ব্যবধান ক্রমাগত বেড়েছে।

এসএই/