‘ষোড়শ সংশোধনী সংবিধানের ওপর আঘাত’

0
25
D. kamal
সোমবার দুপুরে জাতীয় পেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে (সুজন) আয়োজিত বৈঠকে ড. কামাল হোসেন।

সংবিধান প্রণেতা ও আইনজীবী ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদের হাতে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা দেওয়ায় সংবিধানের ওপর আঘাত আসবে। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে বলেই ৪ মিনিটে বিচার বিভাগ ও সংবিধান বদলে ফেলবেন- কোনো গণতান্ত্রিক দেশে তা হতে পারে না।

D. kamal
সোমবার দুপুরে জাতীয় পেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে (সুজন) আয়োজিত বৈঠকে ড. কামাল হোসেন।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত ‘সংবিধান সংশোধন, বিচারপতিদের অভিশংসন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. কামাল বলেন, বিচারপতিদের নিয়োগ পদ্ধতি সংশোধন করা দরকার। কিন্তু সরকার তা না করে বিচারপতিদের কীভাবে অভিশংসন করা যায় সেই আইন করেছে।

তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে যে সংবিধান ছিল তাতে বলা হয়েছিল, সবকিছু নিরপেক্ষভাবে চলবে। এই বিচারপতিদের অভিশংসন কি নিরপেক্ষ হয়েছে? তাহলে দেশতো ’৭২ এর পূর্বের অবস্থায় চলে যাবে।

গবেষক ও প্রাবন্ধিক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, রাজনীতিবিদদের হাতে বিচারপতিদের অভিশংসন ক্ষমতা দেয়া হলে রাষ্ট্র ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়বে। এ বিষয়ে আরো আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতো।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এই সংসদ অবৈধ। যে নির্বাচনের মাধ্যমে এ সংসদ হয়েছে, সেটি কোনো নির্বাচন ছিলনা। বিচারকদের নিয়ে কোন সমস্যা নেই। বিচারপতিদের অভিশংসন ক্ষমতা সংসদকে দেওয়া হচ্ছে দেয়া হচ্ছে- এর চেয়ে বড় নাটক আর হতে পারেনা।

তিনি বলেন, এই সরকারের জনসমর্থন নেই, তারা টিকে আছে র্যানব-পুলিশের ওপর নির্ভর করে। র্যা ব ইতিমধ্যে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে। পুলিশও যদি নিজেদের গুটিয়ে নেয়, তাহলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থেকে পালাবে।

অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, আমাদের উদ্বেগের বিষয় হলো- ষোড়শ সংশোধনীতে শুধু বিচারকদের অভিশংসন কেন? অন্য কোনো বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হয়নি কেন?

অধ্যাপক দিলারা চৌধরী বলেন, আমরা গণতন্ত্র অর্ধেকটা হারিয়ে ফেলেছি, এখন যদি বিচারকদের অভিসংশন ক্ষমতা সংসদে দেয়া হয় তাহলে গণতন্ত্রের বাকি অর্ধেকটাও থাকবে না।

গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. বদিউল আলম মজুমদার।

তিনি বলেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে সরকার এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চাইছে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে শুধু বিচারকদের অপসারণের বিধান হচ্ছে না। এর মাধ্যমে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পদে নিযুক্ত ব্যক্তিদের অপসারণের ক্ষেত্রেও উচ্চ আদলতের বিচারকদের অপসারণের পদ্ধতিই প্রযোজ্য।

তিনি বলেন, সংবিধানের ১১৮(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিমকোর্টের বিচারক যে পদ্ধতি ও কারণে অপসারিত হতে পারেন। সেই একই পদ্ধতি ও কারণে কোনো নির্বাচন কমিশনারও অপসারিত হবেন। এমনিভাবে মহাহিসাব নিরীক্ষক এবং সরকারি কর্ম কমিশনের সভাপতি ও অন্য সদস্যদের অপসারণের ক্ষেত্রে যথাক্রমে সংবিধানের ১২৯(২) ও ১৩৯(২) অনুচ্ছেদের বিধানও একই।

এমআই/