‘নারী ও শিশুরাই জলবায়ু পরিবর্তনে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত’

0
45
cirdap 2
সিরডাপ মিলনায়তনে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. হাছান মাহমুদ।

বাংলাদেশে জলবায়ু পরির্বতনের কারণে বিপুল সংখ্যক মানুষকে ভিটে মাটি ছাড়তে হচ্ছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নারী ও শিশুরা। কিন্তু দেশব্যাপী জলবায়ু স্থানচ্যুত মানুষের সংখ্যা কত- তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। তারা বিভিন্ন স্থানে অমানবিক জীবনযাপন করছেন। বঞ্চিত হচ্ছেন প্রাপ্য অধিকার থেকে। স্থানচ্যুত এসব মানুষের আবাসন, ভূমি ও সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

cirdap
সোমবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘দ্য নিড ফর আর্জেন্ট হাউজিং, ল্যান্ড অ্যান্ড প্রপার্টি রাইট সলিউশনস্’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘দ্য নিড ফর আর্জেন্ট হাউজিং, ল্যান্ড অ্যান্ড প্রপার্টি রাইট সলিউশনস্’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। সমাজ উন্নয়ন সংস্থা ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল একশন (ইপসা) এই বৈঠকের আয়োজন করে।

বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. হাছান মাহমুদ বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে প্রতিবছর উপকূলীয় অঞ্চল ভেঙ্গে পড়ে। ফলে সেসব এলাকা থেকে কত সংখ্যক লোক অন্যত্র সরে যায়- তার হিসাব রাখা দরকার।

তিনি বলেন, নদী ভাঙ্গার কারণে অনেকেই শহরমুখী হচ্ছে। ফলে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে শহর। এসব লোকজনকে স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

ইকো ট্যাক্স আরোপের উপরও জোর দিয়ে সাবেক পরিবেশমন্ত্রী বলেন, স্যাটেলাইট শহর না করে, বিদ্যমান শহরগুলোকে মানুষের বসবাসের উপযোগী করা জরুরি। এতে সেখানে বসবাসেন মানুষের আগ্রহ তৈরি হলে রাজধানীতে চাপ কমবে।

বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এ বিষয়ে দ্রুত নীতিমালা তৈরি করা দরকার। বাংলাদেশে উপকূল ও জলবায়ু নিয়ে গবেষণা হয় না। এটা অত্যন্ত জরুরি।

গবেষণা আর সঠিক তথ্যের অভাবে বাংলাদেশ জলবায়ুর ক্ষতিপূরণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

উপকূলীয় অঞ্চলের সমস্যা সমাধানে রাজনীতি ও প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে সমস্যা সমাধানের পক্ষে মত দেন বক্তারা।

জলবায়ু স্থানচ্যুত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সারাদেশের জলবায়ু স্থানচ্যুতমানুষদের মনিটরিং প্রক্রিয়ার আওতায় আনা, চলমান জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আইন ও নীতিমালায় জলবায়ু স্থানচ্যুত মানুষের অধিকারকে অন্তর্ভূক্ত করা দরকার বলেও জানান তারা।

বৈঠকে বক্তব্য রাখেন ইপসার প্রধান নির্বাহী মো. আরিফুর রহমান, প্রকল্পের টিমলিডার মোহাম্মদ শাহজাহান, প্রোগাম অফিসার নেওয়াজ মাহমুদ, সিপিআরডি’র প্রধান নির্বাহী মো. শাহজাহান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন বিভাগের অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ প্রমুখ।

জেইউ/