ফার-মোজাফফরে নতুন শেয়ারের ভাগ্য?

0
64
far-mozaffar
ফার কেমিক্যালস ও মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলস
far-mozaffar
ফার কেমিক্যালস ও মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলস

পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক গতিশীলতায় অনেকটা নেতৃত্ব দিয়েছে তুলনামূলক নতুন কোম্পানিগুলোর শেয়ার। বিশেষ করে চলতি বছর যে সব কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়েছে তার প্রায় সবগুলোর শেয়ারের দাম গত কিছু দিন লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। তাতে পুরনো পরীক্ষিত কোম্পানি বাদ দিয়ে অনিশ্চিত নতুন কোম্পানির শেয়ারে ঝাপিয়ে পড়েছে অনেক বিনিয়োকারী।

হুজুগ-গুজব শেষে বাস্তবে কোম্পানির মৌলভিত্তির উপর নির্ভর করবে কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দর পরিবর্তনের ধারা কতটা টেকসই হবে।আর আজই শুরু হচ্ছে এ বিষয়ে অগ্নিপরীক্ষা। আজ বিকালে লভ্যাংশ ঘোষণা করবে ফার কেমিক্যাল লিমিটেড। পরশু বুধবার মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলস লিমিটেডের লভ্যাংশ ঘোষণা করার কথা।

উল্লেখ, চলতি বছর ১১ টি কোম্পানি লেনদেনে এসেছে। বাকী নয় কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- ফার ইস্ট নিটিং, তুং হাই নিটিং, খুলনা প্রিন্টিং, শাহজিবাজার পাওয়ার, পেনিনসুলা চিটাগাং, হাওয়েল টেক্সটাইল, মতিন স্পিনিং, এমারেল্ড অয়েল এবং এএফসি এগ্রো।

কোম্পানিগুলোর মধ্যে এমারেল্ড অয়েলের শেয়ার ৪৪ টাকা, শাহজিবাজার ৮৯ টাকা, এএফসি এগ্রো ৫৪ টাকা, ফার কেমিক্যালস ৫৪ টাকা, খুলনা প্রিন্টিং ৩৪ টাকা, ফারইস্ট নিটিং ৪০ টাকা, হাওয়েল ৪৯ টাকা, মোজাফফর হোসেন স্পিনিং ৩৪ টাকা, মতিন স্পিনিং ৪৭ এবং তুং হাই নিটিংয়ে শেয়ার ২৭ টাকা দরে কেনা-বেচা হচ্ছে।

আলোচিত কোম্পানিগুলোর চেয়ে বেশ কম দামে কেনা-বেচা হচ্ছে সমজাতীয় অনেক কোম্পানির শেয়ার। আর এদের কোনো কোনোটির নিট মুনাফা ও শেয়ার প্রতি আয় নতুন কোম্পানিগুলোর চেয়েও ভালো। নতুন-পুরাতন কোম্পানির মধ্যে ব্যবধান কতটুকু এখন সে পরীক্ষাই হতে যাচ্ছে।

আলোচিত কোম্পানি দুটির মধ্যে তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ফার কেমিক্যালের শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস ছিল ২ টাকা ৯৪ পয়সা।আর মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলের ইপিএস ১ টাকা ১৯ পয়সা। কোম্পানি দুটির ইপিএসকে অ্যানুয়ালাইজড (৯ মাসের ইপিএসের আলোকে ১ বছরের ইপিএস সম্পর্কে প্রক্ষেপণ করা) করলে সম্ভাব্য ইপিএস দাঁড়ায় ৩ টাকা ৯২ পয়সা এবং ১ টাকা ৫৮ পয়সা। তবে শেষ প্রান্তিকে মুনাফায় উচ্চ প্রবৃদ্ধি হলে কিংবা অন্যান্য খাতের আয় থেকে থাকলে (Extra Ordinary Income) ইপিএস তারচেয়েও বাড়তে পারে।অন্যদিকে শেষ প্রান্তিকে মুনাফায় কোনো ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হলে ইপিএস কমতেও পারে।

অভিজ্ঞজনরা মনে করেন, একটি কোম্পানি ভালো মুনাফা করলে বা প্রত্যাশিত লভ্যাংশ দিলে বিনিয়োগকারীরা আশা করতে শুরু করেন-সমজাতীয় অন্য কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রেও ভালো লভ্যাংশ পাওয়া যাবে। অন্যদিকে একটি কোম্পানি খারাপ করলে অন্যগুলো নিয়েও আশংকা জাগে। আর এর প্রভাব পড়ে শেয়ারের দামে।