কেমন আছেন মাধুরী?

0
56

সময়ের পরিবর্তনে বদলে গেছে গোটা বলিউড। দেখতে সুন্দর, ভাল নাচ জানা কিংবা সত্যিকারের মাথাওয়ালা অভিনেতা-অভিনেত্রীরও কোনো কমতি নেই আজ।এক দশক পর তাই আবারও নিজের শক্ত অবস্থানটা ফিরে পাওয়া একটু কষ্টসাধ্যই বটে।

২০০২ সালে দেবদাস-এর সাফল্যের পর সেলুলয়েড থেকে মাধুরী দীক্ষিতের বিদায়ে গোটা ইন্ডাস্ট্রি হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল। জায়গাটা ভরাট হবে কাকে দিয়ে- এ নিয়ে চিন্তিত ছিল গোটা বলিউডবাসী।কিন্তু মাধুরী নিজেই ক্যারিয়ারের বিনিময়ে বেছে নিয়েছিলেন পরিবারকে।

madhuri-dixit-
মাধুরী দীক্ষিত- ফাইল ছবি

২০১৩ সালে এসে অভিনয়ের পোকাটা যখন কুরে কুরে খেতে লাগল মাধুরীকে। সুদূর ডেনভার থেকে নেনে-পরিবার তখন বাক্স-প্যাঁটরা নিয়ে সোজা হাজির হয়েছিলেন মুম্বাই। প্রায় একই রকম কাণ্ড ঘটেছিল ২০০৭-এ। তখন যশরাজ ফিল্ম মাধুরীকে অফার দেয় ‘আজা নাচলে’-র জন্য। কিন্তু তখন অবশ্য মাধুরী ফিল্মটাকে ভারতে ছুটির ফাঁকে একটা কাজ হিসেবেই দেখে ছিলেন।

এই মুহূর্তে মাধুরীর কেরিয়ারের অবস্থাটা কী?

ছোট্ট কথায় বলতে গেলে, সব রকমের চেষ্টা সত্ত্বেও তার কেরিয়ার এখনও উড়ান দেওয়ার অপেক্ষায়।

অনুষ্কা, আলিয়া, পরিণীতি, দীপিকাদের জমানায় পায়ে পায়ে হোঁচট খাচ্ছেন মাধুরী দীক্ষিত। তার মধ্যেই ‘দেড় ইশকিয়া’ আর ‘গুলাব গ্যাং’ করেছেন। ২টো ফিল্মই সুপারডুপার ফ্লপ।

বহু বছর বাদে মাধুরী যখন ইন্ডাস্ট্রিতে ফেরার রাস্তা খুঁজছেন, তখন সেই বলিউডের মধ্যে একটা বড়সড় পরিবর্তন ঘটে গেছে। ফলে সব রকমের চেষ্টা একেবারেই বিফলে যাচ্ছে তার।

২০০২-এ যখন তিনি ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে কার্যত বিদায় নিলেন, তখন মোবাইল ফোন ছিল লাক্সারি। আর আজ, এই ২০১৪-য় দাঁড়িয়ে? আপনি কখনও এ কথা বলতে পারবেন? পরিবর্তনের এই তীব্রতাটা মাধুরীকে বুঝতেই হবে।

এবার দেখা যাক, নিজের পড়তি দশা মেরামতির জন্য মুম্বাইয়ে ফিরে এসে মাধুরী কী কী করেছেন?

মুম্বাইয়ে আসার পরে পরেই শুরু করলেন নাচের স্কুল। যেখানে উৎসাহীদের বলিউডি নাচ শেখানো হবে।

এরপর ডাক্তার স্বামীকে সঙ্গে করে অত্যাধুনিক সব যন্ত্রপাতি নিয়ে একটা হাসপাতাল চালু করবেন বলে কিছু টাকাপয়সা জোগাড় করলেন। তবে হাসপাতালের ভবিষ্যৎ নিয়ে নেনে-পরিবারের কাছ থেকে এখন অবধি কিছুই জানা যায়নি।

তারপর? বহু বছরের বিশ্বস্ত ম্যানেজার, বলতে গেলে ক্যারিয়ারের গোড়ার পর্ব থেকে যিনি ছিলেন ছায়াসঙ্গী, সেই রিক্কু রাকেশনাথকে ছেঁটে ফেললেন। তার জায়গায় দায়িত্বে আনলেন
‘ম্যাট্রিক্স বে’ নামের একটি ব্যবসায়ী সংস্থাকে। যারা কি না তার ব্যবসাপত্র, কাজকর্ম, এনডোর্সমেন্ট ইত্যাদি দেখবে।

সব মিলিয়ে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল, ইন্ডাস্ট্রিতে যে সব অদলবদল ঘটে গেছে, তার গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে চাইছেন মাধুরী।

কিন্তু এই সব করতে গিয়ে খুব বিশ্রী ভাবে রিক্কুকে ছেঁটে ফেললেন। যে কি না তিরিশ বছর ধরে মাধুরীর পাশে ছিলেন। ’৮০ কি ’৯০-এর দশকে ‘মাধুরী দীক্ষিত’ গড়ে তোলার পিছনে যার ভূমিকা বেশ বড় মাপের।

বলিউডে নিজের উপস্থিতিটা টের পাইয়ে দেওয়ার জন্য সব চেয়ে ভাল উপায় হল বড় ব্যানারের নিচে কাজ করা। মাধুরীর ক্ষেত্রে যেটা ছিল করণ জোহরের ধর্মা প্রোডাকশন। মাধুরী তাই করলেন।

Madhuri-Dixit
মাধুরী দীক্ষিত- ফাইল ছবি

একটা স্পেশাল আইটেম নাম্বারে এখনকার অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম হার্টথ্রব রণবীর কপূরের সঙ্গে নাচ। নিশ্চিত করেই যা ছিল খবরে ফিরে আসার বা বলিউডের ট্রেড সার্কেলে নিজের উপস্থিতি টের পাইয়ে দেওয়ার জন্য মাধুরীর পক্ষে যথেষ্ট। উঠতি প্রযোজক বা পরিচালকদের কাছে বার্তাও গেল আবার ফিরে এসেছেন মাধুরী।

কিন্তু ‘দেড় ইশকিয়া’ ও ‘গুলাব গ্যাং’ এর মাধ্যমে মাধুরীর ‘কামব্যাক’-এর পক্ষে ঠিক গেল না। বক্সঅফিসে ছবিগুলো বিন্দুমাত্র প্রভাবই ফেলল না।

দিলীপ ঠাকুরের মতে, মাধুরী প্রায় পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই। কিন্তু সেই তুলনায় তিনি যথেষ্ট মেনটেন্ড। তার জাদুময়ী হাসি এখনও অন্যকে মোহিত করে দেবার পক্ষে যথেষ্ট, কিন্তু সেন্ট্রাল রোল পাওয়ার জন্য ওর এই চেষ্টা করে যাওয়াটা ঠিক না। তাছাড়া চল্লিশের ওপর বয়েসের সে রকম লিড রোলই বা কোথায়?

মাধুরীর সব চেয়ে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ওর বয়স। মাধুরী তাও চেষ্টা করে যাচ্ছেন, এখনও বলিউডে আগের মতোই ফিরে আসতে এবং লিড রোলে। তাতে ওঁর নাছোড় মনের প্রকাশ পাচ্ছে বটে কিন্তু লাভের লাভ হচ্ছে না।

বলিউডের ওয়াকিবহাল মহলের অনেকেরই ধারণা, এবার বোধহয় মাধুরীর সময় এসেছে, একটু শান্ত হয়ে ধীরেসুস্থে বাস্তবটাকে মেনে নেওয়া। কারণ ‘ধক্ ধক্’ মাধুরীর আর ফেরার কোনো জায়গাই নেই আজকের বলিউডে।

এএসএ/