ঋণপত্র খোলা ও নিষ্পত্তির হার কমেছে

0
40
Capital Machinery
মূলধনী যন্ত্রাংশ (ফাইল ছবি)
Capital Machinery
মূলধনী যন্ত্রাংশ (ফাইল ছবি)

চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলা ও নিস্পত্তির হার কমেছে। এ মাসে সামগ্রিকভাবে পণ্য আমদানিতে এলসি খোলার হার কমেছে ৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ ও নিষ্পত্তি কমেছে ১১ দশমিক ৬১ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই মাসে মোট ৩৪৮ কোটি ৭৭ লাখ ডলার সমপরিমাণ পণ্যের ঋণপত্র খোলা হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৩৬৩ কোটি ১৫ লাখ ডলার। এ হিসেবে ৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ কম আমদানি ঋণপত্র খোলা হয়েছে।

একই সময়ে, ঋণপত্র নিষ্পত্তি হয়েছে ২৮৩ কোটি ৭৬ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩২১ কোটি ৩ লাখ ডলার। এতে করে ঋণপত্র নিষ্পত্তি কমেছে ১১ দশমিক ৬১ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ সামান্য কমে যাওয়ার কারণে মূলধনী যন্ত্রপাতি, খাদ্যপণ্য আমদানি তুলনামূলক কমে গেছে। কিন্তু পোশাক শিল্প, গার্মেন্ট শিল্প খাত ও বিদ্যুৎ খাতের যন্ত্রপাতি আমদানিও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এতে আমদানি চিত্র কিছুটা বদলে গেছে। এছাড়া পোশাক শিল্পখাতের ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি, মূলধনী যন্ত্রপাতি ও জ্বালানি তেলের আমদানিতেও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়েছে। এতে দুই বছরে ধরে চলে আসা আমদানির অচলাবস্থা কাটতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে আরও দেখা গেছে, চলতি বছরের জুলাই মাসে জুন মাসের তুলনায় ঋণপত্র খোলা ও নিষ্পত্তির হার কমেছে। জুনে সার্বিক পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র খোলার হার ৩৫৭ কোটি ৫২ লাখ ডলার, নিষ্পাত্তি হয়েছে ৩১১ কোটি ৪৯ লাখ ডলারের সমপরিমাণ।

তথ্যানুযায়ী, জুলাই মাসে মূলধনী যন্ত্রাংশের জন্য ১৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের ঋণপত্র খোলা হলেও নিষ্পত্তি হয়েছে ১৩ কোটি এক লাখ মার্কিন ডলার। ব্যাক টু ব্যাকের পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র খোলা হয়েছে ৫৬ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার এবং নিষ্পত্তি হয়েছে ৫৩ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার।

খাদ্যপণ্যের মধ্যে চাল আমদানিতে ২ কোটি ৮১ লাখ মার্কিন ডলার ঋণপত্র খোলা হলেও ঋণপত্র নিষ্পত্তি হয়েছে ২ কোটি ২৭ লাখ ডলার।

গম আমদানিতে ঋণপত্র নিষ্পত্তি হয়েছে ৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার, খোলা হয়েছে ১৪ কোটি ৫২ লাখ ডলার। চিনি আমদানিতে ৪ কোটি ৩৬ লাখ ডলারের ঋণপত্র খোলা হলেও নিষ্পত্তি হয়েছে ৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, ভোজ্যতেল আমদানি করা হয়েছে ৭ কোটি ৩ লাখ ডলারের, নিস্পত্তি ৪ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। আলোচ্য সময়ে দুগ্ধজাত পণ্যে আমদানি হয়েছে ২ কোটি ৬ লাখ ডলার, নিষ্পত্তি হয়েছে এক কোটি ৯৮ লাখ ডলার।

জুনে মূলধনী যন্ত্রাংশের জন্য ঋণপত্র খোলার পরিমাণ সবচেয়ে বেশী। এসময়ে খোলা হয়েছে ৪৩ কোটি ৯৭ লাখ ডলার, নিষ্পাত্তি হয়েছে ১৯ কোটি ২২ লাখ ডলার। ব্যাক টু ব্যাকের পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র খোলা ৪২ কোটি ৮৫ লাখ মার্কিন ডলার এবং নিষ্পত্তি হয়েছে ৫৪ কোটি ৮১ লাখ মার্কিন ডলার।

এসএই/