ক্ষুব্ধ শতাব্দী!

0
60
satabdi-roy
শতাব্দী রায়- ফাইল ছবি
satabdi-roy
শতাব্দী রায়- ফাইল ছবি

ফোনের জ্বালায় অতিষ্ট বীরভূমের তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়। এবার বেজায় চটেছেন তিনি। এ কারণেই শনিবার সিউড়ির পুরন্দরপুরে কর্মীদের তোপ দেগেছেন শতাব্দী।

তিনি বলেছেন, এটা কী রকম কথা! যে কোনো কারণে আমাকেই ফোন কেন?

ভারতের বার্তা সংস্থা আনন্দবাজার পত্রিকা এ তথ্য জানিয়েছে।

কপালে ভাঁজ, ঘন ঘন আঁচলে মুখ মুছে শতাব্দী বলছেন, পাড়ায় ট্রান্সফর্মার জ্বলে গেলে আমাকে ফোন, পাড়ায় একটি কুকুরের সঙ্গে মারপিট হলেও আমাকে ফোন!

এমনকি বাড়ির বউ পালালেও আপনারা এমপি-কে ফোন করছেন, কেন?

তিনি বলেন, অভিযোগ জানানোর বিবিধ জায়গা রয়েছে। পঞ্চায়েত, কাউন্সিলর ও বিধায়ক লেভেল আছে। তার পর তো সাংসদ।

নায়িকা-সাংসদের এ হেন ক্ষোভে অবশ্য অস্বস্তিতে পড়েছেন শাসকদলের নেতা-কর্মীরা। তাজ্জব বনে গিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।

ক’মাস আগে লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে বীরভূমের প্রত্যন্ত এই পুরন্দরপুর এলাকায় এসেই শতাব্দী অকাতরে বিলিয়ে গিয়েছিলেন নিজের মোবাইল নম্বর।

দলের স্থানীয় নেতারা জানান, ভোট-প্রচারে এসে শতাব্দী স্থানীয় কর্মী থেকে এলাকার গ্রামীণ মানুষকে নিজের নম্বর দিয়ে বলেছিলেন, যে কোনো প্রয়োজনে আমাকে ফোন করবেন। দ্বিধা করবেন না।

শতাব্দী আরও বলেছিলেন, সিনেমায় তাকে দেখতে টাকা খরচ করতে হয়। কিন্তু ভোট দিলে বিনা পয়সাতেই ৫টা বছর তাকে দেখতে পাবেন তারা।

কেন্দ্রের প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ রামচন্দ্র ডোম বলেন, মানুষ ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করেন। তাদের সুবিধা-অসুবিধা তো তাকেই দেখতে হবে। মানুষ যদি নিচুতলায় কাজ না পান, তা হলে কার কাছে যাবেন?

রায়গঞ্জের সিপিএম সাংসদ মহম্মদ সেলিমের কটাক্ষ, এই ধরনের অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের ভোটের আগে এক রকম চেহারা থাকে, ভোটের পরে অন্যরকম!

আসানসোলের বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়র মন্তব্য, উনি ভুলে যাচ্ছেন, যারা ওকে ফোন করছেন তারাই ওকে সাংসদ করেছেন।

শতাব্দী অবশ্য বলছেন, বিরক্তি থেকে বলিনি। শুধু বলেছি যে কাজ যেমন পঞ্চায়েত, পুরসভা, বা বিধায়ক স্তরেই মিটে যায় তার দায় আমাকে নিতে হচ্ছে বলে।

এএসএ/