প্যারিসে বাংলাদেশি পোশাকের প্রদর্শনী

0
50

BD_Garmentsবাংলাদেশের তৈরি পোশাককে বিশ্ববাজারে আরওপরিচিত করে তুলতে এবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে এক প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। বাংলাদেশ অ্যাপারেল অ্যান্ড টেক্সটাইল এক্সপোজিশন- ‘বাটেক্সপো-২০১৪’ শীর্ষক এ প্রদর্শনী শুরু হবে আগামি ১৬ সেপ্টেম্বর। তিনদিনব্যাপী এ প্রদর্শনী চলবে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সেরা এই প্রদর্শনীটি অনুষ্ঠিত হবে প্যারিসের ডিইউ প্রেসিডেন্ট উইলসন, ডকস পুলম্যান ভেন্যুতে।

আয়োজকরা বলছেন, পশ্চিমাদের কাছে পোশাক শিল্পের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার, বাজার সম্প্রসারণ ও নতুন ক্রেতাদের মাঝে ‘ব্র্যান্ড বাংলাদেশ’কে তুলে ধরতেই এই প্রদর্শনী।

বিজিএমইএসূত্রে জানা গেছে, বিজিএমইএর আয়োজনে দেশের বাইরে এই প্রথম কোনো প্রদর্শনীতে কেবল বাংলাদেশের স্টলই থাকছে। মোট ৬৫টি স্টলের মধ্যে  বিজিএমইএ’র সদস্যরা বরাদ্দ নিয়েছেন ৫৩টি। এছাড়াও বিজিএমইএ’র সদস্য নয়, এমন ৭ টি কারখানা স্টল বরাদ্দ নিয়েছেন। বাকি ৫টি স্টল এখনো বরাদ্দ হয়নি।

বরাদ্দ দেওয়া ৬০টি স্টলের মধ্যে ওভেন গার্মেন্টসের ১৬টি, নিট গার্মেন্টসের ২১টি সোয়েটারের ২০টি, ডেনিম ফেব্রিকসের ২টি ও মোজার কারখানা একটি রয়েছে।

বিজিএমইএসহ-সভাপতি শহীদুল্লাহআজীম অর্থসূচককে বলেন, প্যারিসে বাটেক্সপো’র মাধ্যমে ক্রেতাদের মাঝে আস্থা তৈরি হবে। নতুন ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশি পোশাকের পরিচিতি বাড়বে। যার ফলে এই শিল্পের একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে তাদের মাঝে। বাংলাদেশের পোশাকের প্রতি আকর্ষণ ও বাজার সম্প্রসারণ হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

এবার বাটেক্সপো’র উদ্দেশ্য হচ্ছে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি পোশাকের পরিচিতি আরও বাড়ানো। পোশাকশিল্পে তাজনীন ফ্যাশন ও রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর ক্রেতাদের মাঝে বিশেষ করে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি ব্র্যান্ডিংয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। গত বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশ ছেড়ে বহু ক্রেতা অন্য দেশে তাদের ব্যবসা সরিয়ে নিয়েছে। এতে করে ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশের প্রতি তাদের আস্থা কমে গেছে।

পোশাকশিল্পে অগ্নি, বিদ্যুৎ ও ভবন নিরাপত্তা এবং শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য কম্প্লায়েন্স ইস্যুতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশ। আবার রাজনৈতিক অস্থিরতার কমেছে। এসময় ক্রেতাদের মাঝে বাংলাদেশি পোশাক গুণগতমান ও রকমারি ডিজাইন পরিচিত করানোর জন্য এই আয়োজন হচ্ছে।

উদ্যোক্তারা বলছেন, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে ক্রেতাদের সামনে পোশাক শিল্পের বর্তমান অবস্থা  তুলে ধরা হবে। তাদের দেখাতে চান যে, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এখন আর রানা প্লাজার ধ্বংসস্তুপের নিচে নেই। ইউরোপের ক্ষুদ্র ও মাঝারি আমদানিকারকদের সাথে আবার ব্যবসা করতে চান তারা। এক সময় পশ্চিমা ক্রেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প উদ্যোক্তারা সুম্পর্কের মাধ্যমে কাজ করতো। যার কারণে অনেক বেশি রপ্তানি করা সম্ভব হয়েছে। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে ক্রেতাদের সঙ্গে শিল্প উদ্যোক্তাদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।

জানা যায়, এই পদর্শনীর জন্য বিজিএমইএ একটু আগেভাগে কাজ শুরু করে। এতে প্রাথমিকভাবে বিজিএমইএর ৭৫ জন সদস্যভূক্ত কারখানা ও ২৫টি অ্যাকসেসোরিজ প্রতিষ্ঠান অংশ নেওয়ার কথা ছিল। মধ্যম পর্যায়ের কারখানাগুলোকে প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে যারা ক্রেতাদের মাঝে তাদের পোশাকের গুণগতমান ও ডিজাইন সম্পর্কে সফলভাবে তুলে ধরতে পারবেন।